রাজধানীর শাপলা চত্বরে সহিংস ঘটনার স্মৃতি এখনও অনেক পরিবারের কাছে বেদনাদায়ক হয়ে আছে।
এক যুগ পেরিয়ে গেলেও ওই রাতের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অসন্তোষ রয়ে গেছে।
হেফাজতে ইসলামের একাধিক নেতা দাবি করেছেন, ওই রাতে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালানো হয়।
সংগঠনের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, সেই ঘটনার স্মৃতি এখনও তাদের মনে আতঙ্ক তৈরি করে।
তিনি অভিযোগ করেন, অনেক আলেম-উলামা প্রাণ হারিয়েছেন এবং তারা এর বিচার চান। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ের সহিংস ঘটনাগুলোরও তদন্ত দাবি করেন।
সংগঠনের আরেক দায়িত্বশীল নেতা বলেন, তারা প্রতিশোধের রাজনীতি চান না; তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দীর্ঘদিন ধরে বিচার না হওয়াকে তিনি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বিষয়টি নিয়ে International Crimes Tribunal–এ তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের বয়ানে উঠে এসেছে গভীর শোক ও ক্ষোভের চিত্র। ময়মনসিংহের এক নিহত ব্যক্তির বড় ভাই জানান, ছোট ভাইটি সেদিন সমাবেশে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল, পরে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে ভয়ের মধ্যে কাটালেও এখন তারা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।
কুড়িগ্রামের এক নিহতের মা বলেন, সন্তানের মৃত্যু মেনে নেওয়া তার জন্য এখনও কঠিন। প্রতি বছর এ সময় এলেই স্মৃতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে, আর তিনি ছেলের হত্যার বিচার দাবি করেন।
খাগড়াছড়ির এক ভুক্তভোগীর স্ত্রী জানান, তার স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সন্তানদের নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই জীবন কাটছে তার।
ঢাকার ডেমরার এক বাবার ভাষ্য, তার ছেলে কর্মস্থলে যাওয়ার পর কীভাবে ওই ঘটনায় জড়ালেন, তা তিনি জানেন না। পরে হাসপাতালের মর্গ থেকে মরদেহ নিতে হয় তাকে। সেই অভিজ্ঞতা এখনও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, এত বছর পরও ঘটনার প্রকৃত চিত্র পরিষ্কার হয়নি।
তাদের দাবি, দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
বিশ্লেষকদের মতে, শাপলা চত্বরের সেই রাত এখনো দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি বিতর্কিত ও অমীমাংসিত অধ্যায়। এলাকাটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এলেও অনেক পরিবারের কাছে এটি এখনো বেদনার প্রতীক হয়ে আছে।
এসআর