জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উড়োজাহাজ নির্মাতা Boeing-এর কাছ থেকে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে এটি একটি বড় বিনিয়োগ উদ্যোগ।
চুক্তির আওতায় বিমানের বহরে যুক্ত হবে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজ।
পুরো প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ।
বিমানের পক্ষে সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বোয়িংয়ের প্রতিনিধিরা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং এভিয়েশন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমানের বহর আধুনিকায়নের পাশাপাশি দীর্ঘ ও স্বল্প দূরত্বের রুট পরিচালনায় সক্ষমতা বাড়বে।
বিশেষ করে ড্রিমলাইনার সিরিজের উড়োজাহাজগুলো ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দূরপাল্লার রুটে কার্যক্রম জোরদার করবে। অন্যদিকে ৭৩৭-৮ ম্যাক্স আঞ্চলিক রুটে ব্যবহারের জন্য উপযোগী হবে।
বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জ্বালানি সাশ্রয়ী ও আধুনিক প্রযুক্তির এই উড়োজাহাজগুলো সংযোজনের ফলে অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ সহজ হবে। এতে বৈশ্বিক বিমান পরিবহন বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।
বোর্ড সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বহর সম্প্রসারণের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন বৃদ্ধি, পুরোনো উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপন এবং নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদে সংস্থার লাভজনকতা বাড়ানোও এর অন্যতম লক্ষ্য।
এদিকে জানা গেছে, দেশের প্রধান বিমানবন্দর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতির মধ্যেই এ চুক্তি সম্পন্ন হলো।
নতুন টার্মিনাল চালু হলে যাত্রীসেবা ও ফ্লাইট পরিচালনায় সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বোয়িং ও ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাসের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছিল। শেষ পর্যন্ত বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি হওয়ায় সেই প্রতিযোগিতার অবসান ঘটল।
এসআর