যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন আদালত। এই ঘটনায় তাদের রুমমেট
হিশাম আবুগারবিয়েহ (২৬) নামের এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত খুনের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
ফ্লোরিডার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং আদালতের নথির ভিত্তিতে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ: তদন্তকারীদের মতে, হিশাম তার নিজের বাসার ভেতরেই লিমন ও বৃষ্টিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করেন। এরপর তিনি ক্লিনিং সরঞ্জাম দিয়ে রক্ত পরিষ্কার করেন। লিমনের মরদেহ একটি বড় কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশে ফেলে আসেন।
মরদেহ উদ্ধার ও শনাক্তকরণ: গত শুক্রবার ব্রিজের উত্তর পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, বৃষ্টির সন্ধানে তল্লাশিকালে একটি জলাশয় থেকে অন্য একটি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে উদ্ধারকৃত দ্বিতীয় মরদেহটি বৃষ্টির কি না, তা নিশ্চিত করতে মেডিকেল এক্সামিনার অফিস কাজ করছে।
প্রমাণ ও ডিজিটাল সূত্র: গোয়েন্দারা আবর্জনার স্তূপ (ট্র্যাশ কম্প্যাক্টর) থেকে নিহতদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র এবং রক্তের নমুনা উদ্ধার করেছেন, যা লিমন ও বৃষ্টির বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া ঘাতক হিশামের মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে মরদেহের ভাগাড় এবং নিহতদের ফোনের কাছাকাছি তার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
চ্যাটজিপিটির ব্যবহার: তদন্তে আরও জানা গেছে, হিশাম ওই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলো অনলাইনে কেনাকাটা করেছিলেন এবং এমনকি লাশ গুম করার উপায় নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা 'চ্যাটজিপিটি'-র সঙ্গেও আলোচনা করেছিলেন।
বর্তমানে ঘাতক হিশাম পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং আদালতের নথিতে এই হত্যাকাণ্ডকে একটি সুপরিকল্পিত অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
এসআর