দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগের প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ এগিয়ে চললেও এর বিশাল নির্মাণ ব্যয় এখন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথ্যমতে, প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায়
বাংলাদেশে এই প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিক বেশি, যা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় বোঝা হয়ে উঠতে পারে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রূপপুর প্রকল্পের ব্যয়ের অসংগতিগুলো নিম্নরূপ:
নির্মাণ ব্যয়: রূপপুরে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫,২৭১ ডলার। অন্যদিকে ভারতের কুদানকুলাম প্রকল্পে এই ব্যয় মাত্র ৩,১২৫ ডলার।
উৎপাদন খরচ: রূপপুরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের প্রাক্কলিত উৎপাদন ব্যয় ৯.৩৬ সেন্ট, যা ভারতের তুলনায় প্রায় ৭৫% বেশি।
আঞ্চলিক তুলনা: তুরস্ক, রাশিয়া ও জাপানে ইউনিটপ্রতি নির্মাণ ব্যয় ৩,২০০ থেকে ৪,০০০ ডলারের মধ্যে হলেও বাংলাদেশে তা ৫,৮৯০ ডলারে পৌঁছেছে। এমনকি ইউরোপের ফিনল্যান্ডেও একই প্রযুক্তির কেন্দ্রে ব্যয় বাংলাদেশের তুলনায় কম।
প্রকল্পটির অস্বাভাবিক ব্যয়ের পেছনে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে:
পাচারের অভিযোগ: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে এই প্রকল্প থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ উঠেছে, যা বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে।
নথিপত্রে স্বচ্ছতার অভাব: বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান রোসাটম খরচের বিস্তারিত নথিপত্র প্রকাশে অনীহা দেখাচ্ছে।
অনিয়ম: বালিশকাণ্ডসহ বিভিন্ন কেনাকাটায় দুর্নীতির বিষয়টি আগে থেকেই আলোচিত। সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাবে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ১২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত করা হয়েছে, যেখানে সমক্ষমতার কেন্দ্র ৪ বিলিয়ন ডলারে সম্ভব ছিল।
গত মঙ্গলবার রূপপুর কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি লোড করা হয়েছে। এর ফলে আগামী আগস্ট মাস থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে। তবে উচ্চ নির্মাণ ব্যয়ের কারণে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের কাছে কত দামে বিদ্যুৎ পৌঁছাবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। টিআইবিসহ বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন এই মেগা প্রকল্পের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতে অধিকতর তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
এসআর