পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল জ্বালানি হলো ইউরেনিয়াম, যা খনি থেকে উত্তোলনের পর বিশেষ প্রক্রিয়ায় জ্বালানিতে রূপান্তর করা হয়।
জ্বালানি প্রস্তুতি: প্রক্রিয়াজাত ইউরেনিয়ামকে ছোট ট্যাবলেটের মতো দানায় রূপ দেওয়া হয়, যাকে প্যালেট বলে। এই প্যালেটগুলো পেন্সিলের রাবারের মতো ছোট হলেও এর শক্তি বিশাল।
ফুয়েল রড ও অ্যাসেম্বলি: প্যালেটগুলোকে ১২ ফুট লম্বা ধাতব নলের (ফুয়েল ক্ল্যাডিং) ভেতরে সাজিয়ে মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাকে বলা হয় ফুয়েল রড। রিঅ্যাক্টরের ধরন অনুযায়ী প্রায় ১০০ থেকে ৩০০টি রড সাজিয়ে একটি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি তৈরি করা হয়।
শক্তি উৎপাদন (ফিশন): রিঅ্যাক্টরের ভেতর ইউরেনিয়ামের আইসোটোপ ইউ-২৩৫-কে নিউট্রন দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে পরমাণু বিভাজিত হয়ে প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে, যাকে 'ফিশন' বলা হয়। এই তাপ দিয়ে পানি ফুটিয়ে বাষ্প তৈরি করা হয় এবং সেই বাষ্পের চাপে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
জ্বালানি পরিবর্তন: সাধারণত প্রতি ১৮ থেকে ২৪ মাস পর রিঅ্যাক্টরের এক-তৃতীয়াংশ পুরোনো জ্বালানি সরিয়ে নতুন জ্বালানি বসাতে হয়। ব্যবহৃত পুরোনো জ্বালানিকে 'স্পেন্ট ফুয়েল' বলা হয়, যা অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় এবং বিশেষ নিরাপত্তার মধ্যে সংরক্ষণ করতে হয়।
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা
আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১-এ জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন হচ্ছে।
নির্মাণকাল: ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর এই প্রকল্পের মূল নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল।
লাইসেন্স প্রাপ্তি: ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রথম ইউনিটের জন্য 'কমিশনিং লাইসেন্স' প্রদান করে।
অগ্রগতি: এই লাইসেন্স পাওয়ার পরই জ্বালানি লোডিং এবং পরীক্ষামূলক উৎপাদনের পথে বড় বাধা দূর হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি খাতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।
এসআর