সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় নেতাদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইতিহাসের সত্য
স্বীকার করতে কার্পণ্য করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতার শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ এবং আহত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪-এর স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই পর্যন্ত যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের সাহসী ভূমিকা চিরকাল প্রেরণা হয়ে থাকবে।
স্বাধীনতা পুরস্কারকে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করেন। তিনি জানান:
১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই পুরস্কারের প্রবর্তন করেছিলেন।
দেশ ও জাতির কল্যাণে যারা স্মরণীয় অবদান রাখছেন, তাদের সম্মানিত করাই এই পুরস্কারের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে দেশ গড়ার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, "মতাদর্শ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু সেই বিরোধ যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়।" শহীদ জিয়ার উক্তি স্মরণ করে তিনি যোগ করেন, ‘জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা’।
এ বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এ বছর মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, গুণীজনদের এই কৃতিত্ব কেবল দেশেই নয়, বরং বিশ্বদরবারেও সমাদৃত হবে এবং নতুন প্রজন্মের জন্য পাথেয় হিসেবে কাজ করবে।
এসআর