পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে প্রতিবছর রমনা পার্কে পান্তা-ইলিশের ধুম পড়লেও এবার সেই চিরচেনা চিত্র বদলে গেছে। পার্কে অস্থায়ী কোনো দোকান না থাকায় দর্শনার্থীদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থায়ী রেস্টুরেন্ট, যেখানে অস্বাভাবিক
দামে বিক্রি হচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী খাবার।
অস্থায়ী দোকানের অভাব: গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার রমনা পার্ক বা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অস্থায়ী পান্তা-ইলিশের দোকান দেখা যায়নি। মূলত মার্চ-এপ্রিলের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা এবং বাজারে ইলিশের চড়া দামের কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এবার দোকান বসাতে নিরুৎসাহিত হয়েছেন।
উচ্চমূল্য: রমনা পার্কের ভেতরে অবস্থিত 'মি. কুক রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ক্যাটারিং'-এ এক প্লেট পান্তা-ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকায়। এই প্যাকেজে থাকছে ছোট এক টুকরো ইলিশ মাছ, পান্তা ভাত এবং এক টুকরো বেগুন ভাজি।
ভোক্তাদের অসন্তোষ: সাধারণ পান্তা-ইলিশের এমন আকাশচুম্বী দাম নিয়ে মেলায় আসা দর্শনার্থীরা তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অনেকে কেবল সন্তানদের আবদার মেটাতে বাধ্য হয়ে চড়া দামে এই খাবার কিনছেন।
রেস্টুরেন্ট কর্মীদের মতে, বাজারে ইলিশের দাম অনেক বেশি হওয়ায় তারা প্যাকেজটির দাম ৬০০ টাকা নির্ধারণ করতে বাধ্য হয়েছেন। তারা ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের টুকরো দিয়ে এই ওয়ান-টাইম প্যাকেজটি সাজিয়েছেন।
মাছের অপ্রতুলতা এবং উচ্চমূল্যের কারণে বাঙালির নববর্ষ উদযাপনের অন্যতম অনুষঙ্গ 'পান্তা-ইলিশ' সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। উন্মুক্ত স্থানে দোকান না থাকায় এবার উৎসবের আমেজেও কিছুটা ভাটা পড়েছে।
এসআর