আধুনিক কর্মব্যস্ত জীবনে অনেকের জন্যই নাইট শিফট বা রাতে কাজ করা একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই অনিয়মিত কাজের ধরন শরীরের ওপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব
ফেলে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় কি না, তা নিয়ে সম্প্রতি নতুন কিছু তথ্য উঠে এসেছে।
নাইট শিফট ও স্বাস্থ্যের সম্পর্ক
সরাসরি নাইট শিফটকে রোগের কারণ বলা না গেলেও, এটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে।
শারীরিক ক্লান্তি: রাতে জেগে থাকার ফলে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়, যা নিয়মিত ব্যায়াম বা সঠিক খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
ঘুমের অভাব: সার্কাডিয়ান রিদম বা শরীরের স্বাভাবিক দিন-রাতের চক্র ব্যাহত হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের সমস্যা তৈরি হয়।
অন্যান্য রোগ: গবেষণায় দেখা গেছে, রাতে কাজ করা ব্যক্তিদের মধ্যে স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি।
নাইট শিফটের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে:
পূর্বের ধারণা: ২০০৭ সালে আইএআরসি (IARC) নাইট শিফটকে 'সম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী' হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।
বর্তমান গবেষণা: ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বড় পরিসরে করা বিভিন্ন মেটা-অ্যানালাইসিস অনুযায়ী, নাইট শিফটের সঙ্গে ব্রেস্ট ক্যানসার বা অন্য ৯ ধরনের ক্যানসারের সরাসরি কোনো অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পরোক্ষ প্রভাব: নাইট শিফট সরাসরি ক্যানসার না ঘটালেও এটি স্থূলতার মতো এমন কিছু সমস্যা তৈরি করে, যা পরোক্ষভাবে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
ঝুঁকি কমাতে করণীয়
ওয়ার্ল্ডওয়াইড ক্যানসার রিসার্চের পরামর্শ অনুযায়ী, যারা নিয়মিত রাতে কাজ করেন তারা নিচের অভ্যাসগুলোর মাধ্যমে সুস্থ থাকতে পারেন:
১. সুষম খাবার: খাদ্যতালিকায় প্রচুর শাকসবজি ও ফাইবার রাখুন। রেড মিট বা প্রক্রিয়াজাত মাংস এড়িয়ে চলুন।
২. নেশা বর্জন: ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা ক্যানসার প্রতিরোধের প্রধান উপায়।
৩. শারীরিক পরিশ্রম: কাজের ফাঁকে বা দিনের অন্য সময়ে নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
৪. ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন ক্যানসারের একটি বড় কারণ, তাই নাইট শিফটেও ওজন নিয়ন্ত্রণে সচেতন থাকা জরুরি।
পরিশেষে, কাজের শিফট যাই হোক না কেন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের মাধ্যমেই বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়িয়ে চলা সম্ভব।
এসআর