রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়া বা লো ব্লাড প্রেসার (হাইপোটেনশন) সব সময় বিপজ্জনক না হলেও, কিছু ক্ষেত্রে এটি উদ্বেগের কারণ হতে পারে। সাধারণত রক্তচাপ ৯০/৬০
mmHg-এর নিচে নামলে তাকে নিম্ন রক্তচাপ বলা হয়।
যখন নিম্ন রক্তচাপের সাথে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত:
মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়া: বিশেষ করে শোয়া বা বসা থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে যদি মাথা ঘোরে বা কেউ অজ্ঞান (সিনকোপ) হয়ে যায়।
শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি: পর্যাপ্ত বিশ্রাম সত্ত্বেও ক্রমাগত ক্লান্তি এবং কাজে মনোযোগ দিতে অসুবিধা হওয়া।
অন্যান্য উপসর্গ: ঝাপসা দৃষ্টি, বমি বমি ভাব, ত্বক ফ্যাকাশে বা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া এবং দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া।
অঙ্গের ক্ষতি: রক্তচাপ অতিরিক্ত কমে গেলে মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড ও কিডনিতে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছায় না, যা দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হতে পারে।
অবস্থান পরিবর্তন ও খাবার: দ্রুত উঠে দাঁড়ানো বা খাবার খাওয়ার পর পরিপাকতন্ত্রে রক্তপ্রবাহ বেড়ে যাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে প্রেসার কমতে পারে।
শারীরিক অসুস্থতা: হার্ট ফেইলিওর, থাইরয়েডের সমস্যা, ডায়াবেটিস বা পানিশূন্যতার কারণে রক্তচাপ কমে যায়।
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা বিষণ্ণতার কিছু ওষুধ প্রেসার কমিয়ে দিতে পারে।
জরুরি অবস্থা: মারাত্মক রক্তপাত, গুরুতর সংক্রমণ (সেপটিক শক) বা তীব্র অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া।
গবেষণার তথ্য: ২০২০ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী, স্ট্রোকের পরপরই রক্তচাপ খুব কম থাকলে রোগীর সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। তাই নিম্ন রক্তচাপকে অবহেলা না করে এর মূল কারণ চিহ্নিত করা জরুরি।
এসআর