একসময় কোলন ক্যানসারকে মূলত বয়স্কদের রোগ হিসেবে ধরা হতো।
বিশেষ করে ৫০ বছরের পর এ রোগের ঝুঁকি বাড়ে বলে মনে করা হতো। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ধারণা বদলে যাচ্ছে। এখন তুলনামূলক কম বয়সী, এমনকি ত্রিশ বা চল্লিশের কোঠার মানুষদের মধ্যেও এই রোগের হার বাড়ছে।
গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, নতুন প্রজন্মের মধ্যে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি আগের প্রজন্মের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং মৃত্যুর ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন না আনলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
তবে ইতিবাচক দিক হলো—কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে এই ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
যেসব অভ্যাস বদলালে ঝুঁকি কমবে
১. অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা
মদ্যপান বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত। নিয়মিত অ্যালকোহল গ্রহণ করলে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ে। তাই এই অভ্যাস ত্যাগ করা সবচেয়ে নিরাপদ।
২. ধূমপান পরিহার
তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার ক্যানসারের বড় কারণগুলোর একটি। দীর্ঘদিন ধূমপান করলে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে, তাই ধূমপান ছেড়ে দেওয়াই উত্তম।
৩. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
অতিরিক্ত ওজন শরীরে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি করে, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম ও সুষম খাদ্যের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
৪. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা
অতিরিক্ত লাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার প্রবণতা ঝুঁকি বাড়ায়। এর পরিবর্তে শাকসবজি, ফল এবং আঁশসমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়া উপকারী।
৫. সক্রিয় জীবনযাপন
অলসতা বা শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ক্যানসারের অন্যতম ঝুঁকি। নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম বা হালকা শারীরিক কাজ করলে এ ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট ছোট অভ্যাসে পরিবর্তন আনলেই বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। তাই সচেতন জীবনযাপনই হতে পারে কোলন ক্যানসার প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
এসআর