[email protected] শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
২৬ চৈত্র ১৪৩২

মায়ের জিনে সন্তানের গড়ে ওঠা: যে ৮ বৈশিষ্ট্য বেশি প্রভাবিত হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ এপ্রিল ২০২৬ ৯:৩৬ পিএম

সংগৃহীত ছবি

একটি শিশুর বেড়ে ওঠা শুধু ভালোবাসা ও পরিবেশের ওপর নির্ভর করে না; এর পেছনে জেনেটিক বা বংশগত প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষ করে মায়ের কাছ থেকে পাওয়া জিন শিশুর শারীরিক গঠন, মানসিক বিকাশ এবং স্বাস্থ্যের নানা দিককে প্রভাবিত করতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।


মা ও সন্তানের সম্পর্ক সাধারণত পরিচর্যা ও আবেগের মাধ্যমে বোঝা গেলেও, এর পেছনে গভীর জৈবিক সংযোগও রয়েছে। অনেক সময় শিশুর আচরণ, স্বাস্থ্য বা বৈশিষ্ট্যে মায়ের ছাপ স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
নিচে এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা তুলে ধরা হলো, যেগুলো মায়ের দিক থেকে সন্তানের মধ্যে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে—


১. মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ
শরীরের কোষে শক্তি উৎপাদনের জন্য দায়ী মাইটোকন্ড্রিয়া কেবল মায়ের কাছ থেকেই আসে। ফলে শক্তি উৎপাদন ও বিপাকক্রিয়ায় এর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ।
২. বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা


বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু জিন মায়ের দিক থেকে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি মায়ের চিন্তাভাবনা ও শিক্ষাগত পরিবেশও এতে ভূমিকা রাখে।
৩. শারীরিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য
ত্বকের রং, চুলের ধরন বা কিছু শারীরিক বৈশিষ্ট্যে মায়ের প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়।
৪. বিপাকক্রিয়া ও ওজন নিয়ন্ত্রণ
শরীর কীভাবে শক্তি ব্যবহার করে বা ওজন বাড়ার প্রবণতা—এসব ক্ষেত্রেও মায়ের জিন ভূমিকা রাখতে পারে।


৫. মেজাজ ও ঘুমের ধরন
কিছু মানসিক প্রবণতা, যেমন ঘুমের সমস্যা বা মুড-সম্পর্কিত বিষয়গুলো আংশিকভাবে উত্তরাধিকারসূত্রে আসতে পারে।


৬. নির্দিষ্ট রোগের ঝুঁকি
ডায়াবেটিস, চোখের কিছু সমস্যা বা অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি মায়ের দিক থেকে প্রভাবিত হতে পারে, তাই সচেতনতা জরুরি।


৭. এক্স-ক্রোমোজোম সংশ্লিষ্ট বৈশিষ্ট্য
বিশেষ করে ছেলেদের ক্ষেত্রে মায়ের কাছ থেকে পাওয়া একমাত্র X ক্রোমোজোমের মাধ্যমে কিছু বৈশিষ্ট্য, যেমন বর্ণান্ধতা, বেশি দেখা যায়।


৮. প্রজনন সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্য (মেয়েদের ক্ষেত্রে)
মেয়েদের মাসিক শুরু বা মেনোপজের সময়কাল অনেক ক্ষেত্রে মায়ের সঙ্গে মিল থাকতে পারে।
শেষ কথা
তবে শুধু জিনই সবকিছু নির্ধারণ করে না। খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ, জীবনযাপন ও সামাজিক প্রভাব—সব মিলিয়েই একটি শিশুর ব্যক্তিত্ব ও বিকাশ গড়ে ওঠে। তাই বংশগত প্রভাবের পাশাপাশি সঠিক যত্ন ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এসআর

সম্পর্কিত খবর