পুঁথিগত বিদ্যা কর্মজীবনের সিঁড়ি হলেও প্রকৃত সফলতার জন্য প্রয়োজন ভালো বই ও সংবাদপত্রের নিয়মিত সান্নিধ্য। সন্তানের উজ্জ্বল
ভবিষ্যতের কারিগর হিসেবে বাবা-মা, বিশেষ করে মায়েদের সমাজ সচেতনতা ও বাস্তব জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। যেহেতু সন্তানরা পুঁথিগত বিদ্যার চেয়ে চারপাশের পরিবেশ এবং মা-বাবার আচরণ থেকে বেশি শেখে, তাই অভিভাবকদের জীবন দর্শন ও সচেতনতা সরাসরি সন্তানের ওপর প্রভাব ফেলে।
মা-বাবাকে রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সামাজিক পরিবর্তনের খবরাখবর রাখতে হবে। পৃথিবী কোন দিকে যাচ্ছে তা জানলে সন্তানকে বাস্তববাদী হিসেবে গড়ে তোলা সহজ হয়। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে শুধু আবেগের বশবর্তী না হয়ে নিরাপত্তাবোধ জাগ্রত করা জরুরি। অপরিচিত গৃহকর্মী, নতুন শিক্ষক কিংবা মেকানিকদের উপস্থিতিতে সন্তানকে একা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই সচেতনতা বাড়াতে অভিভাবকদের নিয়মিত নির্ভরযোগ্য সংবাদ মাধ্যম ও ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার জানতে হবে।
ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেট ও গেমিংয়ের ভিড়ে মুদ্রিত বই পড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে, যা মেধা ও চিন্তাশক্তির জন্য ক্ষতিকর। ই-বুকের চেয়ে মুদ্রিত বই মস্তিষ্কের স্নায়ু ও চোখের জন্য অনেক বেশি উপকারী। সন্তান যদি নিজে পড়তে না চায়, তবে মা-বাবাকেই পড়ে শোনাতে হবে। শরীরচর্চা যেমন শরীর গঠন করে, বই পড়া তেমনি মেধা ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে। তাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি পরিবারের প্রতিটি সদস্যের নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।
এসআর
মন্তব্য করুন: