রমজান মাসে দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকা এবং খাদ্যাভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তনের ফলে
অনেকেরই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা প্রকট হয়। বিশেষ করে পর্যাপ্ত পানি পান না করা, আঁশজাতীয় খাবারের অভাব এবং শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া এই সমস্যার প্রধান কারণ।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, যদি সপ্তাহে তিনবারের কম মলত্যাগ হয় অথবা মলত্যাগের সময় ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জোর প্রয়োগ করতে হয়, তবে তাকে কোষ্ঠকাঠিন্য বলা যেতে পারে। এছাড়া মলত্যাগ সম্পূর্ণ না হওয়ার অনুভূতি বা পথে বাধা অনুভব করাও এর অন্যতম লক্ষণ।
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৪ গ্রাম আঁশ বা ফাইবার গ্রহণ করা প্রয়োজন।
একক কোনো খাবার থেকে এই চাহিদা পূরণ না করে বিভিন্ন খাবারের সমন্বয় করা উত্তম। নিচে কিছু খাবারের আঁশের পরিমাণ দেওয়া হলো:
খাবারের নাম (১ কাপ/পিস) আঁশের পরিমাণ (প্রায়) ২৪ গ্রাম চাহিদাপূরণে প্রয়োজনীয় পরিমাণ
মটরশুঁটি (১ কাপ) ৮ গ্রাম ৩ কাপ
গাজর (১ কাপ) ৫ গ্রাম ৫ কাপ
পাতাকপি (১ কাপ) ৪ গ্রাম ৬ কাপ
মাঝারি আপেল (১টি) ৪ গ্রাম ৬টি
কলা (১টি) ৩
প্রতিরোধ ও প্রতিকারে ৫টি পরামর্শ
১. পর্যাপ্ত তরল: ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত প্রচুর পানি এবং স্বাস্থ্যকর তরল খাবার পান করতে হবে।
২. আঁশযুক্ত খাবার: সেহরি ও ইফতারে প্রচুর শাকসবজি, ফলমূল এবং ইসবগুলের ভুষি রাখা জরুরি।
৩. অভ্যাস পরিবর্তন: প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে (যেমন সেহরির পর) মলত্যাগের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৪. সঠিক ভঙ্গি: টয়লেটে বসার সময় হাঁটু সামান্য ভাঁজ করে বা স্কোয়াটিং ভঙ্গিতে বসলে মলত্যাগ সহজ হয়।
৫. হালকা ব্যায়াম: ইফতারের পর অলস বসে না থেকে হালকা হাঁটাহাঁটি অন্ত্রের গতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
দীর্ঘমেয়াদী বা তীব্র সমস্যার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে ল্যাকটুলোজ বা ম্যাগনেসিয়ামজাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। সামান্য সচেতনতা ও জীবনযাপনের পরিবর্তনই রমজানে এই কষ্টদায়ক সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।
এসআর
মন্তব্য করুন: