পেটের গোলযোগ বা কোষ্ঠকাঠিন্যের ঘরোয়া সমাধানে ইসবগুলের ভুষি আমাদের উপমহাদেশে
অত্যন্ত পরিচিত। বর্তমানের অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারের ভিড়ে অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায় ইসবগুলের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবছেন স্বাস্থ্য সচেতনরা।
ইসবগুল মূলত ‘প্ল্যান্টাগো ওভাটা’ নামক উদ্ভিদের বীজের বহিরাবরণ বা খোসা। বাণিজ্যিকভাবে এটি 'সাইলিয়াম হস্ক' নামে পরিচিত। এর বিশেষত্ব হলো, পানিতে মেশালে এটি দ্রুত জেলির মতো রূপ ধারণ করে, যা হজম প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইসবগুলে ক্যালোরি, চর্বি বা প্রোটিন প্রায় নেই বললেই চলে। এটি মূলত দ্রবণীয় আঁশ (Soluble Fiber) সমৃদ্ধ একটি উপাদান। একে সরাসরি পুষ্টিকর খাবার না বলে 'কার্যকরী খাদ্য উপাদান' বলা বেশি যুক্তিযুক্ত।
স্বাস্থ্যের ওপর এর ইতিবাচক প্রভাব:
কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণ: এটি মলের আর্দ্রতা ধরে রেখে তা নরম করে, ফলে মলত্যাগ সহজ হয়।
ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণ: অবাক করার মতো হলেও সত্য যে, ইসবগুল পাতলা মলকে ঘন করতেও সাহায্য করে, যা ডায়রিয়া পরবর্তী জটিলতা কমায়।
হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস: এর দ্রবণীয় আঁশ রক্তে এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ: এটি অন্ত্রে গ্লুকোজ শোষণের গতি ধীর করে দেয়, যা টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।
ওজন নিয়ন্ত্রণ: পানির সংস্পর্শে এটি ফুলে ওঠে বলে পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা থাকে, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে।
ব্যবহারের সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা
ইসবগুল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি:
১. প্রচুর পানি: ইসবগুল খাওয়ার পর অবশ্যই পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। অন্যথায় এটি অন্ত্রে জমে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
২. ওষুধের সাথে ব্যবধান: আপনি যদি নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন করেন, তবে তার অন্তত এক ঘণ্টা আগে বা পরে ইসবগুল খাওয়া উচিত। কারণ এটি ওষুধের শোষণ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
৩. পরামর্শ: দীর্ঘমেয়াদী কোনো পেটের সমস্যা থাকলে সরাসরি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া শ্রেয়।
ইসবগুল কোনো জাদুকরী ওষুধ নয়, বরং আঁশযুক্ত একটি পরিপূরক। সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারার অংশ হিসেবে এটি গ্রহণ করলে হজম ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
এসআর
মন্তব্য করুন: