[email protected] সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১১ ফাল্গুন ১৪৩২

ডায়াবেটিস রোগীদের রমজানের প্রস্তুতি: চিকিৎসকের কাছে যা জেনে নেওয়া জরুরি

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৬:৩৬ পিএম

পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য রোজা

 রাখা যেমন ইবাদতের অংশ, তেমনি এটি সঠিক পরিকল্পনার দাবি রাখে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়া (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) বা বেড়ে যাওয়ার (হাইপারগ্লাইসেমিয়া) ঝুঁকি থাকে। তাই রোজা শুরুর আগেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।


​নিরাপদ রোজা পালনের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে নেওয়া উচিত:


​১. শারীরিক সক্ষমতা যাচাই
​সবার শারীরিক অবস্থা এক নয়। আপনার বর্তমান স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনায় রোজা রাখা আপনার জন্য কতটা নিরাপদ, তা প্রথমেই চিকিৎসকের কাছ থেকে নিশ্চিত হোন। বিশেষ করে যাদের কিডনি বা হার্টের সমস্যা আছে, তাদের ঝুঁকি বেশি থাকতে পারে।


​২. ওষুধ ও ইনসুলিনের সমন্বয়
​রোজায় যেহেতু সেহরি ও ইফতার—এই দুই সময়ে খাবার খাওয়া হয়, তাই সাধারণ সময়ের ওষুধের নিয়ম কাজ করবে না। ওষুধ বা ইনসুলিনের ডোজ কখন এবং কতটা নিতে হবে, তা চিকিৎসকের মাধ্যমে পুনর্নির্ধারণ করে নিন।


​৩. সুগার মনিটরিং বা মাপার সময়
​রোজার সময় রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। দিনে কতবার এবং কোন সময়ে (যেমন: ইফতারের আগে বা সেহরির ২ ঘণ্টা পর) সুগার পরীক্ষা করবেন, তা জেনে নিন। মনে রাখবেন, গ্লুকোমিটার দিয়ে সুগার মাপলে রোজা নষ্ট হয় না।


​৪. জরুরি অবস্থায় রোজা ভাঙার সংকেত
​শরীরে কোন কোন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত রোজা ভেঙে ফেলতে হবে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিন। যেমন: তীব্র মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, শরীর কাঁপা বা ঝাপসা দেখা—এগুলো রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে। এমন অবস্থায় জীবন বাঁচাতে রোজা ভেঙে শরবত বা মিষ্টি জাতীয় কিছু খাওয়া জরুরি হয়ে পড়ে।


​৫. আদর্শ খাদ্যতালিকা
​সেহরি ও ইফতারে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এমন খাবারের তালিকা তৈরি করুন। সাধারণত আঁশযুক্ত খাবার (শাকসবজি, লাল চাল), পর্যাপ্ত প্রোটিন এবং প্রচুর পানি পান করা উচিত। ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া বা চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

সঠিক প্রস্তুতি ও চিকিৎসকের গাইডলাইন মেনে চললে ডায়াবেটিস নিয়েও সুস্থভাবে রোজা পালন সম্ভব। নিজের ইচ্ছামতো ওষুধের ডোজ পরিবর্তন করা থেকে বিরত থাকুন।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর