সাধারণত নাস্তা বলতেই আমাদের চোখে ভাসে ঝাল, ভাজাপোড়া কিংবা অতিরিক্ত লবণ ও
চিনিযুক্ত খাবার। জিভে জল আনা এসব মুখরোচক খাবার সাময়িক তৃপ্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনে। পুষ্টিবিদদের মতে, নাস্তা বাদ দেওয়া সমাধান নয়, বরং অস্বাস্থ্যকর খাবারের পরিবর্তে বেছে নিতে হবে স্মার্ট ও পুষ্টিকর বিকল্প।
চলুন জেনে নেওয়া যাক বিকেলের নাস্তায় কোন খাবারের বদলে কী খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী:
১. বিস্কুটের বদলে বাদাম ও বীজ
চায়ের সঙ্গে বিস্কুট খাওয়ার অভ্যাস আমাদের ঘরে ঘরে। তবে বিস্কুটের ময়দা ও চিনির বদলে কাঠবাদাম, আখরোট, কুমড়ার বীজ বা সূর্যমুখী বীজ খাওয়ার অভ্যাস করুন। এগুলোতে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন ও খনিজ উপাদান দীর্ঘক্ষণ শরীরকে সতেজ রাখে।
২. চিপসের পরিবর্তে ভাজা ছোলা
অতিরিক্ত লবণ ও ট্রান্স-ফ্যাটযুক্ত চিপস হার্টের জন্য ক্ষতিকর। এর বদলে বেছে নিন ভাজা ছোলা। এতে প্রচুর ফাইবার ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিন রয়েছে, যা কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি ছাড়াই ক্ষুধা মেটায়।
৩. মিষ্টি দইয়ের বদলে বেরি ও টক দই
বাজারের ফ্লেভারযুক্ত দইয়ে প্রচুর চিনি থাকে। এর পরিবর্তে টক দইয়ের সঙ্গে পেঁপে বা বেরি জাতীয় ফল মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে থাকা প্রোবায়োটিক আপনার অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখবে এবং ফলের প্রাকৃতিক মিষ্টি চিনির চাহিদা মেটাবে।
৪. চকোলেটের বদলে ফল ও পিনাট বাটার
মিষ্টি খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা হলে প্রসেসড চকোলেট বা ক্যান্ডি না খেয়ে একটি আপেল বা কলার সঙ্গে সামান্য পিনাট বাটার মিশিয়ে নিন। এটি কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিনের এক চমৎকার সমন্বয়, যা হঠাৎ ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।
৫. ইনস্ট্যান্ট নুডলসের পরিবর্তে সেদ্ধ ডিম বা পনির
দ্রুত তৈরি করা যায় বলে নুডলস অনেকেরই প্রিয়, কিন্তু এতে পুষ্টিগুণ নেই বললেই চলে। এর বদলে প্রোটিনসমৃদ্ধ সেদ্ধ ডিম বা পনির হতে পারে আদর্শ নাস্তা। এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে এবং কর্মক্ষমতা বাড়ায়।
সামান্য খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনই আপনাকে দীর্ঘমেয়াদী রোগ থেকে দূরে রাখতে পারে। তাই আজ থেকেই শুরু হোক স্বাস্থ্যকর নাস্তার অভ্যাস।
এসআর
মন্তব্য করুন: