সকালবেলা খালি পেটে অনেক স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের পছন্দের তালিকায় থাকে এক গ্লাস
বেলের শরবত। কেবল প্রশান্তি আনতেই নয়, বেলের ঔষধি গুণাগুণ প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে অনন্য স্থান দখল করে আছে।
নিয়মিত বেলের শরবত খেলে শরীরে কী ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়ে, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
বেলের আটটি বিস্ময়কর স্বাস্থ্য উপকারিতা
১. কোষ্ঠকাঠিন্য ও ত্বকের যত্ন: বেলে থাকা ল্যাকোটিভ উপাদান কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কার্যকর। টানা ৩ মাস নিয়মিত বেল খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে ত্বকে। এতে ব্রণ কমে এবং ত্বক উজ্জ্বল হয়।
২. আলসার উপশমে: পাকা বেলের শাঁসে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ থাকে, যা আলসার সারাতে সাহায্য করে। আলসারের রোগীরা সপ্তাহে অন্তত তিন দিন বেলের শরবত খেতে পারেন।
৩. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: পাকা বেলে 'মেথানল' নামক উপাদান থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে চিনি বা মিষ্টি ছাড়া সরাসরি বেল খাওয়া বেশি উপকারী।
৪. আর্থ্রাইটিস বা ব্যথানাশক: হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা বা আর্থ্রাইটিসের সমস্যায় বেল বেশ কার্যকর। নিয়মিত বেল খেলে হাড় ও মাংসপেশির প্রদাহ কমে।
৫. হজমশক্তি ও এনার্জি বৃদ্ধি: ১০০ গ্রাম বেল থেকে প্রায় ১৪০ ক্যালরি এনার্জি পাওয়া যায়। এর উচ্চ আঁশ হজম ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের পাচনক্রিয়াকে শক্তিশালী করে।
৬. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় যারা ভুগছেন, তাদের জন্য বেল একটি প্রাকৃতিক ওষুধ। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৭. ক্যানসার প্রতিরোধ: বেলে রয়েছে অ্যান্টি-প্রলেফিরেটিভ ও অ্যান্টি-মুটাজেন উপাদান, যা শরীরে ক্যানসার প্রতিরোধী কোষ তৈরি করতে সাহায্য করে।
৮. শরীরে শীতলতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: গরমের দিনে শরীরের পানিশূন্যতা রোধ করে শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখে বেল। পাশাপাশি এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি বুস্ট করতে সাহায্য করে।
অন্যান্য উপকারিতা
বেল কেবল শরবত হিসেবেই নয়, বরং ডায়রিয়া, আমাশয়, জন্ডিস এবং যক্ষ্মার মতো রোগ প্রতিরোধেও কার্যকর। তাই সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এই দেশি ফলটি অনায়াসেই রাখতে পারেন।
বেলের শরবতে অতিরিক্ত চিনি ব্যবহার এড়িয়ে চলাই ভালো, বিশেষ করে যাদের ওজন বা সুগার নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন রয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: