নতুন বছর এলেই আমরা অনেক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত লক্ষ্য ঠিক করি—
ভালো খাবার খাওয়া, ব্যায়াম বাড়ানো কিংবা নিয়মিত ঘুমানো। কিন্তু সারাদিন কর্মক্ষম ও সতেজ থাকার বিষয়টি প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়। অতিরিক্ত কফি বা চিনিযুক্ত খাবারে সাময়িক চাঙ্গা ভাব এলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তাই বিশেষজ্ঞরা এখন নিয়মিত অভ্যাস, সঠিক পুষ্টি ও খাবারের সময়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। শরীরের শক্তি ধরে রাখতে খাদ্যাভ্যাসে যেসব পরিবর্তন আনতে পারেন—
১. অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন
প্যাকেটজাত ও প্রস্তুত খাবার খেতে সহজ হলেও এগুলো শরীরকে দীর্ঘ সময় শক্তি দিতে পারে না। এসব খাবারে সাধারণত ফাইবার কম, পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট ও অতিরিক্ত চিনি বেশি থাকে। নিয়মিত এ ধরনের খাবার খেলে ক্লান্তি বাড়তে পারে। তাই এসবের বদলে ঘরে তৈরি, স্বাভাবিক খাবার বেছে নেওয়ার চেষ্টা করুন।
২. প্রোটিনসমৃদ্ধ নাস্তাকে গুরুত্ব দিন
অনেকের সকালের নাস্তায় থাকে জ্যাম, মিষ্টি সিরিয়াল বা পেস্ট্রি—যাতে প্রোটিন ও আঁশের ঘাটতি থাকে। এতে দ্রুত শক্তি এলেও তা খুব অল্প সময়েই কমে যায়। ডিম, টক দই, ডাল, বিনস কিংবা টোফু দিয়ে তৈরি নাস্তা দীর্ঘক্ষণ শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৩. প্রতিদিন সবুজ শাক-সবজি রাখুন
সবুজ শাক-সবজি নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস শরীরের শক্তি ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এগুলোতে রয়েছে ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম, ফোলেট ও বিভিন্ন উপকারী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। প্রতিদিন অন্তত একবার পাতাযুক্ত শাক খাওয়ার চেষ্টা করুন।
৪. প্রতিটি খাবারে ফল ও সবজি যোগ করার লক্ষ্য নিন
খাবার থেকে কী বাদ দেবেন তার চেয়ে কী যোগ করবেন—সেদিকে মনোযোগ দিন। প্রতি বেলায় দুই থেকে তিন ভাগ ফল বা সবজি রাখলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পায়, যা সারাদিন শক্তি ধরে রাখতে সহায়তা করে।
৫. রাতের খাবার তুলনামূলক আগেই শেষ করুন
দেরিতে রাতের খাবার খেলে হজম ও ঘুমের সমস্যা হতে পারে, যার প্রভাব পড়ে পরদিনের শক্তির ওপর। চেষ্টা করুন সন্ধ্যা ৬–৭টার মধ্যেই রাতের খাবার শেষ করতে। এতে ঘুম ভালো হবে এবং পরদিন নিজেকে আরও সতেজ লাগবে।
এসআর
মন্তব্য করুন: