[email protected] মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
২২ বৈশাখ ১৪৩৩

ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে ত্রুটি দেখেননি আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৪ মে ২০২৬ ৮:০৮ পিএম

সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চলমান কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের কাজে প্রশ্ন তোলার মতো কোনো বিষয় তার নজরে আসেনি।

সোমবার (৪ মে) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আদালতের কার্যক্রম ঘিরে কোনো অসঙ্গতি চোখে পড়লে তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে। তবে বর্তমানে বিচারপ্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য, মামলার সংখ্যা বাড়ানো নয়।


তিনি আরও বলেন, ট্রাইব্যুনালে আসা মামলাগুলো যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


প্রসিকিউশনের কিছু বিতর্কিত কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী জানান, এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এমন নজরদারি অব্যাহত থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের পদক্ষেপের নজির অতীতে খুব বেশি নেই।


আইনমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি প্রথমবারের মতো ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন। সেখানে চলমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং আইনি ও প্রশাসনিকভাবে সেগুলো সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।


সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের প্রবেশ সীমিত করার বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির নিজস্ব বিবেচনা রয়েছে। তবে সাংবাদিকদের উদ্বেগ তার নজরে এসেছে এবং বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


বিচারপতিদের অবসরের বয়স কমানোর বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ব্যক্তিগতভাবে তিনি অবসরের বয়স কমানোর পক্ষে নন বলেও ইঙ্গিত দেন।


আসন্ন বাজেটে বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি খুব বেশি আশাবাদী নন উল্লেখ করে বলেন, সম্ভাব্য সুযোগ অনুযায়ী বরাদ্দ বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।


বিদেশে পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কাজ করছে।


এছাড়া বিভিন্ন আইন ও অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, বাজেট অধিবেশন বা পরবর্তী অধিবেশনে ধাপে ধাপে সেগুলো আনা হবে। ইতোমধ্যে মানবাধিকার ও গুম সংক্রান্ত আইনের বিষয়ে পরামর্শ সভার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত গণপিটুনির ঘটনাগুলো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এগুলো সাধারণত পূর্বপরিকল্পিত নয়, বরং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ফল। তাই এসব ঘটনার বিচার প্রচলিত আইনের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।


সবশেষে তিনি বলেন, অতীতের বিভিন্ন আলোচিত ঘটনার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম সরকারের নীতিমালার মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সে অনুযায়ী কাজ করছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর