যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে।
স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির পর এবার দলটির ভেতর থেকেই তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।
সোমবার চারজন সংসদীয় সচিব পদত্যাগ করেন এবং ৭০ জনের বেশি লেবার এমপি প্রকাশ্যে স্টারমারের সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, দলের ভেতরে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করেছে।
অনেকেই মনে করছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কার্যকর নেতৃত্ব ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং আগামী সাধারণ নির্বাচনে দলকে বিজয়ের পথে নিতে পারবেন না।
এদিকে সরকারের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীও স্টারমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাবানা মাহমুদসহ কয়েকজন মন্ত্রী তাকে দায়িত্ব ছাড়ার সম্ভাব্য সময়সীমা নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট্টে কুপারও নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয়ে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
পদত্যাগকারী নেতাদের ভাষ্য, দলের সংসদ সদস্যদের বড় একটি অংশ এখন আর স্টারমারের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। এর প্রভাব সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও পড়ছে বলে তারা মনে করছেন।
তবে কেয়ার স্টারমার আপাতত সরে দাঁড়ানোর কোনো ইঙ্গিত দেননি। লন্ডনে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে নেতৃত্বে পরিবর্তন হলে দেশে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
স্টারমার আরও বলেন, জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক চাপ কমাতে তার সরকার নতুন উদ্যোগ নেবে। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে আরও কার্যকর ও সক্রিয় নেতা হিসেবে প্রমাণ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
দলের ভেতরে চাপ বাড়লেও পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতোমধ্যে শূন্য হওয়া কয়েকটি পদে নতুন নিয়োগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে তার পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া নেতার সংখ্যা এখন খুবই সীমিত বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবার পার্টির বড় সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও স্টারমারের নেতৃত্ব এখন কঠিন পরীক্ষার মুখে
এসআর