ইরানে সাম্প্রতিক বিমান হামলা এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে দেশটির অর্থনীতি এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি বুধবার (২২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে,
উৎপাদন, পর্যটন এবং ডিজিটাল খাতসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ধস নেমেছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান সরকারের ইন্টারনেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ডিজিটাল অর্থনীতি। দেশটির তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী সাত্তার হাশেমির দেওয়া তথ্যমতে, প্রতিদিন ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রায় ৫০ ট্রিলিয়ন রিয়াল ক্ষতি হচ্ছে। গত ৫২ দিনে এই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮০ কোটি ডলারে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নারী উদ্যোক্তারা, যারা ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের বড় বড় পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্ট এবং স্টিল কারখানাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে আসালুয়েহ, মাহশাহর এবং খুজেস্তানের কারখানাগুলোতে হামলার ফলে হাজার হাজার শ্রমিক সরাসরি চাকরি হারিয়েছেন। এছাড়া হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় কাঁচামাল আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আরও অনেক কারখানা তাদের উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে।
এমনকি সংবাদের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও আর্থিক সংকটে সংবাদমাধ্যমগুলো কর্মী ছাঁটাই করছে। ইরান লেবার নিউজ এজেন্সি (আইএলএনএ) তাদের সাংবাদিকদের স্থায়ী পদ থেকে সরিয়ে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে, মানুষের আয় কমে যাওয়ায় পর্যটন ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায় স্থবিরতা নেমে এসেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তায় সরকার ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিলেও তার শর্ত নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ১৮ থেকে ৩৫ শতাংশ উচ্চ সুদে ছয় মাসের মধ্যে এই ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। এর মধ্যেই ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ইরানের মুদ্রাস্ফীতি ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং যুদ্ধের এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সাধারণ ইরানিদের জীবনযাত্রা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
এসআর