[email protected] শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হলই যেন দ্বিতীয় পরিবার: দূরে থেকেও পাশে থাকার গল্প

বুটেক্স প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২৬ ৫:৪৮ পিএম

সংগৃহীত ছবি

রাত গভীর।

সারাদিনের ক্লাস, ল্যাব ও নানা ব্যস্ততা শেষে হলের ছোট্ট কক্ষে বসে পড়াশোনা করছিলেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) এক শিক্ষার্থী।

এমন সময় বাসা থেকে ফোন আসে। মায়ের কণ্ঠে পরিচিত প্রশ্ন, “খেয়েছো তো?” সংক্ষিপ্ত উত্তর দিলেও ফোন কেটে যাওয়ার পর মনটা যেন হঠাৎ করেই ভারী হয়ে ওঠে।

ঠিক তখনই পাশের বন্ধু ডাক দেয়, “চলো, নিচে গিয়ে একটু চা খেয়ে আসি।


বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পরিবার থেকে দূরে থাকা অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই এমন মুহূর্তগুলো খুব পরিচিত।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হলের রুমমেট, বন্ধু কিংবা সহপাঠীরাই হয়ে ওঠে নতুন এক পরিবার যাদের সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও থাকে নির্ভরতার বন্ধন।


আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস উপলক্ষে বুটেক্সের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে হলজীবনের নানা অভিজ্ঞতা। একাকীত্ব, মানসিক চাপ, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে এই ভিন্নধর্মী সম্পর্ক।


ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুর দিকের রাতগুলো তার কাছে সবচেয়ে কঠিন ছিল। দিনের ব্যস্ততার পর নীরবতা নেমে এলে পরিবারের কথা বেশি মনে পড়ত।

বিশেষ করে মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার পর কিছুটা মানসিক স্বস্তি পেতেন তিনি। তার ভাষায়, “যত চাপই থাকুক, বাসার মানুষের সঙ্গে কথা বললে মনটা হালকা হয়ে যেত।


টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, হলজীবনে বন্ধুরাই সবচেয়ে বড় ভরসা।

অসুস্থতা বা খারাপ সময়গুলোতে বন্ধুদের আন্তরিকতা তাকে নতুনভাবে সাহস জুগিয়েছে। তিনি বলেন, একবার অসুস্থ হয়ে পড়লে বন্ধুরাই ওষুধ ও খাবারের ব্যবস্থা করেছিল। তখন বুঝেছি, পরিবার দূরে থাকলেও আমি একা নই।


তিনি আরও বলেন, ছুটির সময় অধিকাংশ বন্ধু বাড়ি চলে গেলে ক্যাম্পাস অনেক ফাঁকা লাগে।

তখন উপলব্ধি হয়, একসঙ্গে কাটানো সময়গুলোই মানুষকে কাছাকাছি নিয়ে আসে।


অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র এক শিক্ষার্থীর মতে, হলজীবন শুধু পড়াশোনার অভিজ্ঞতা নয়; এটি আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

তার ভাষায়, “হল মানুষকে দায়িত্ব নিতে শেখায়, সংগ্রাম করতে শেখায়। একইসঙ্গে ছোট ছোট মুহূর্তে আনন্দ খুঁজে নিতে শেখায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের মানুষগুলোই পরিবারের অংশ হয়ে যায়।


বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ত করিডোর, রাতজাগা পড়াশোনা, টং দোকানের আড্ডা কিংবা একসঙ্গে কাটানো সাধারণ মুহূর্তগুলোই ধীরে ধীরে গড়ে তোলে এক অদৃশ্য বন্ধন।

যেখানে দূরের শহরে থাকা তরুণরা শিখে যায়—পরিবার শুধু জন্মসূত্রে নয়, কঠিন সময়ে পাশে থাকা মানুষগুলোর মাঝেও খুঁজে পাওয়া যায়।

এসআর

সম্পর্কিত খবর