[email protected] সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
৭ বৈশাখ ১৪৩৩

ইবিতে জাতীয় পতাকা ও বেগম জিয়ার ছবি অবমাননার অভিযোগে প্রতিবাদ

ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ৯:০৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জাতীয় পতাকা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি অবমাননার অভিযোগে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জাতীয়তাবাদী শিক্ষক সংগঠন ‘ইউট্যাব’ ও ‘জিয়া পরিষদ’।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) বেলা ১২ টায় প্রশাসন ভবনের সামনে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের উদ্দেশ্যে একত্রিত হয় সংগঠন দুটির নেতৃবৃন্দরা। এ সময় তাদের সাথে প্রতিবাদ সমাবেশের সাথে সংহতি জানিয়ে জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা সংগঠন ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

 

ইবি ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে ও জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান, ইউট্যাবের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও সাদা দলের আহ্বায়ক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, ড. আলীনূর রহমান, ড. নজিবুল হক, ইউট্যাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ড. রশিদুজ্জামান, ড. মিজানুর রহমান, টিএসসিসি পরিচালক ড. জাকির হোসেন, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি মঈদ বাবুল, সম্পাদক তোজাম হক সহ শাখা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

এছাড়া অনলাইনে যুক্ত ছিলেন জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন।

 

এসময় ইউনিভার্সিটি টিচার্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এর শাখা সভাপতি ড. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য সারা জীবন যে নেত্রী কাজ করে গেলেন এবং সর্বশেষ জীবন উৎসর্গ করলেন। যার প্রশংসা আজ সারা বিশ্বে।

সেই নেত্রীর ছবি এমন একটি জায়গায় অবমাননা করা হয়েছে যে জায়গার প্রতিষ্ঠাতা তারই স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এটা গত ১৫ তারিখের ঘটনা অথচ আজকে ১৯ তারিখ আসলেও এখন পর্যন্ত আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। অথচ আমাদের ধারণা ছিল প্রশাসন তার নিজ উদ্যোগেই ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

কিন্তু আজকে আমরা এই সমাবেশ থেকে জানিয়ে দিতে চাই আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আমরা দেখতে চাই। পাশাপাশি আমাদের সহকর্মী আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার যে বিচারের দাবি আমরা ইতোপূর্ব করেছি আজকেও করছি অনতিবিলম্বে এর বিচার করা হোক। এবং আমাদের আরেকজন ছাত্র সাজিদ আব্দুল্লাহ যার মৃত্যুর প্রায় ছয় মাস পার হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত কাদের নির্দেশে কোন অজ্ঞাত কারণে সেই বিচার বন্ধ রয়েছে আমরা জানি না। এই তিনটি বিষয়ে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে একটি দৃষ্টান্তমূলক অবস্থান আমরা দেখতে চাই।

 

জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান বলেন, আমি এই বিষয়ে প্রশাসনের তিনজন শীর্ষ ব্যক্তিকে ব্যক্তির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সরাসরি নিয়োজিত। আপনারা তিনজন ভাইস চ্যান্সেলার, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলার এবং ট্রেজারার আপনারা সরকারের প্রতিনিধি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে তথা সরকারকে যদি অবমাননা করা হয় তাহলে তার প্রতিবাদ করার জন্য, শাস্তি দাবি করার জন্য আমাদেরকে কেন রাস্তায় দাঁড়াতে হবে? তাহলে আপনারা কি কাজে এখানে আছেন? যদি আপনারা সরকারের সম্মান রক্ষা করতে না পারেন তাহলে দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে চলে যান।

আর যদি দায়িত্ব উপযুক্তভাবে পালন করতে পারেন তাহলে দায়িত্বে থাকেন। আট এটা আপনাদেরকেই করতে হবে। যদি আপনারা না করেন আমরা আমাদের মত করে সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সাদা দলের আহবায়ক অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, আমরা অতীতে দেখেছি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় পতাকাকে অবমাননা করার নজির কিন্তু বাংলাদেশে রয়েছে। সুতরাং এই নজির গত ১৫ তারিখে হয়েছে তা নয়, এটি অতীতেও হয়েছে এবং আমার ধারণা ভবিষ্যতে হয়তো একটি চক্র সেটি করার চেষ্টা করতে পারে। এছাড়া ক্যাম্পাসের পূর্বের দুটি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অতিদ্রুত সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি, পাশাপাশি জাতীয় পতাকা অবমাননার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

 

উল্লেখ্য, গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নিহত আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচারের দাবিতে প্রশাসন ভবনে অবস্থানকালে বেশ কয়েকটি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। তন্মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানার ছিল।

 

এসআর

সম্পর্কিত খবর