ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরের দিকে অনুষদ ভবনের সামনে থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল শুরু করেন। পরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে তারা সমাবেশ করেন। এ সময় প্রশাসনিক ভবন ও প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ জানান আন্দোলনকারীরা।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বিচার দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ঘটনার জন্য দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান।
শিক্ষার্থীরা চারটি মূল দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হলো— নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, নিহতের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা ও একজন সদস্যের চাকরির ব্যবস্থা, একটি হল রুনার নামে নামকরণ এবং বিভাগে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, আগের কিছু হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটছে। তারা সংশ্লিষ্ট সকল অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, প্রশাসন শুরু থেকেই ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে খালি পদ না থাকায় নিহত শিক্ষিকার পরিবারের সদস্যকে তাৎক্ষণিক চাকরি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তবে ভবিষ্যতে সুযোগ হলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি তার নামে একটি হল নামকরণের প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।
স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ হাসান বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের দেশত্যাগ ঠেকাতে ইমিগ্রেশন পয়েন্টগুলোতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তথ্য পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ কার্যালয়ে হামলার শিকার হয়ে নিহত হন আসমা সাদিয়া রুনা। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী বাদী হয়ে মামলা করেন। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও অন্য কয়েকজন এখনো পলাতক রয়েছেন।
এসআর