ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় এক মক্তব শিক্ষক ও মসজিদের ইমামকে ধর্ষণের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ তদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার পর বেরিয়ে এসেছে যে, কিশোরীর
সন্তানের পিতা ওই শিক্ষক নন, বরং তার আপন বড় ভাই।
মিথ্যা মামলা: ২০২৪ সালের নভেম্বরে স্থানীয় এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে মামলা করেন কিশোরীর মা।
হয়রানি ও জেল: নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও মোজাফফরকে এক মাস দুই দিন কারাভোগ করতে হয়। এই ঘটনায় তিনি তার মসজিদের ইমামতি এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারান। মামলা লড়তে গিয়ে তাকে নিজের জমিও বিক্রি করতে হয়েছে।
পুলিশি তদন্তে মোজাফফরের ডিএনএ-র সাথে কিশোরীর সন্তানের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। অধিকতর তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য:
স্বীকারোক্তি: পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ওই কিশোরী স্বীকার করে যে, তার আপন বড় ভাই মোরশেদ তাকে ধর্ষণ করেছে।
ডিএনএ রিপোর্ট: ফরেনসিক রিপোর্টে দেখা যায়, মোরশেদের ডিএনএ-র সাথে শিশুটির ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে, অর্থাৎ মোরশেদই শিশুটির জৈবিক পিতা।
ভাইয়ের গ্রেপ্তার: দোষ স্বীকার করার পর বড় ভাই মোরশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা মোজাফফর আহমদকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। মিথ্যা অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেও মোজাফফর আহমদ যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, তার জন্য তিনি এখন যথাযথ ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন।
ভাইকে বাঁচাতে একজন নিরপরাধ ইমামকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছিল, যা আধুনিক বৈজ্ঞানিক তদন্তের মাধ্যমে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। স্থানীয় ওলামা সমাজ এবং ভুক্তভোগী ইমাম এই ঘটনার জন্য দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
এসআর