[email protected] রবিবার, ৩ মে ২০২৬
২০ বৈশাখ ১৪৩৩

ইতালিতে ভাই হত্যার ঘটনায় নতুন মোড়, সামনে এলো পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও দুই নারীর ভূমিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২ মে ২০২৬ ৮:৪১ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ইতালিতে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে, যা ঘটনাটিকে আরও জটিল করে তুলছে।

পারিবারিক  বিরোধ ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।


পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে শুধু দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্বই নয়, বরং দুই নারীর মধ্যে প্রতিযোগিতা ও বিরোধও ভূমিকা রেখেছে।

হুমায়ুন দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছিলেন এবং ২০২৩ সালে ছোট ভাই নয়নকেও সেখানে নিয়ে যান। বিদেশে নেওয়ার খরচ ধীরে ধীরে পরিশোধ করছিলেন নয়ন।


একপর্যায়ে হুমায়ুন দ্বিতীয় বিয়ে করলে পারিবারিক অশান্তি বাড়তে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, তার দুই স্ত্রী প্রায়ই নয়নের আর্থিক অবস্থান নিয়ে তুলনা করে হুমায়ুনকে উসকানি দিতেন। এতে করে ভাইদের মধ্যে দূরত্ব ও বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে।


পরিবারের দাবি, নয়ন দেশে-বিদেশে পরিবারের দায়িত্ব বহন করতেন। বাবার চিকিৎসা থেকে শুরু করে সংসারের খরচ বহন করা ছাড়াও সম্প্রতি জমি কেনার মতো বড় বিনিয়োগ করেছিলেন তিনি। এসব বিষয়ই হিংসা ও অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।


ঘটনার দিন হুমায়ুন তার এক স্ত্রীর কাছে বার্তা পাঠিয়ে ছোট ভাইকে হত্যা করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে, যা ঘটনাটিকে পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে করার কারণ জোগাচ্ছে।


অন্যদিকে, হুমায়ুনের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেছেন, দুই ভাইয়ের মধ্যে আর্থিক বিষয় নিয়েই বিরোধ ছিল এবং এতে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।


নিহতের মা বড় ছেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বলেন, ছোট ছেলে নির্দোষ ছিল এবং অন্যদের প্ররোচনায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।


এদিকে, ঘটনার পর হুমায়ুনের প্রথম স্ত্রী নিহতের পরিবার সদস্যদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন, যা এলাকায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


উল্লেখ্য, ইতালির একটি শহরে দুই ভাইয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নয়ন নিহত হন। ঘটনার পর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্ত হুমায়ুনকে আটক করেছে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর