মাগুরা সদর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামে টানা বৃষ্টিতে কেটে রাখা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।
ঘরে তোলার আগেই মাঠে পড়ে থাকা সোনালী ধান নষ্ট হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ জমিতে কাটা ধানের আঁটি পড়ে আছে। পর্যাপ্ত নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় জমিতে পানি জমে রয়েছে। সেই পানিতেই ধান ভিজে কালচে হয়ে যাচ্ছে, কোথাও কোথাও আবার শীষে অঙ্কুরও বের হতে শুরু করেছে।
স্থানীয় কৃষক ইব্রাহিম জানান, পাঁচ বিঘা জমির ধান কাটার পরপরই বৃষ্টি শুরু হয়। পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় ধান মাঠেই নষ্ট হচ্ছে। তার ভাষায়, “ধান পচে গন্ধ বের হচ্ছে, বড় ক্ষতির মুখে পড়েছি।
একই দুরবস্থার কথা জানিয়েছেন কৃষাণী রহিমা বেগমও। তিনি বলেন, টানা বৃষ্টিতে পানি সরানো সম্ভব হচ্ছে না।
ধান দ্রুত ঘরে তুলতে না পারলে বছরের খাদ্য সংকটের আশঙ্কা করছেন তিনি।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শ্রীরামপুর ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ১৫০ হেক্টর জমির কাটা ধান পানিতে আটকা পড়েছে।
দ্রুত পানি নিষ্কাশন না হলে এর বড় অংশ নষ্ট হয়ে যেতে পারে, যার ফলে কৃষকদের কোটি টাকার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানান, কৃষকদের একযোগে নালা কেটে পানি সরানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি জমি শুকিয়ে এলে ধান দ্রুত মেলে দিয়ে শুকানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ধান রক্ষায় ছত্রাকনাশক ব্যবহারের পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলেও তারা জানান।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়।
এসআর