মাগুরার শালিখা উপজেলায় মাঠজুড়ে এখন সোনালি বোরো ধানের সমারোহ। তীব্র রোদ ও বৈরী আবহাওয়ার শঙ্কার মাঝেই উপজেলার তালখড়ি, শতখালী ও ধনেশ্বরগাতীসহ বিভিন্ন এলাকায় পুরোদমে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ
চলছে। তবে ফলন ভালো হলেও শ্রমিকের তীব্র সংকট এবং আকাশচুম্বী মজুরি কৃষকদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, গত বছর যে শ্রমিকের মজুরি ছিল ৬০০-৭০০ টাকা, এবার তা বেড়ে ১১০০-১২০০ টাকায় ঠেকেছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, এক মণ ধান বিক্রি করেও একজন শ্রমিকের মজুরি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না, যার ফলে ফসলের একটি বড় অংশই শ্রমিক খরচ হিসেবে চলে যাচ্ছে। এছাড়া বৈশাখী ঝড় ও ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ কাজ করছে। অনেকে মনে করেন, কৃষি শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণে একটি নীতিমালা থাকলে কৃষক ও শ্রমিক উভয় পক্ষই উপকৃত হতো।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে শালিখায় ১৩ হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার প্রায় ২০ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কাটা শেষ। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ধরা হয়েছে ৪.৮ টন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে বাকি ধান কাটা সম্পন্ন হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবুল হাসনাত জানান, উন্নত জাতের ধান চাষ করায় এবার উৎপাদন গত বছরের চেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় কৃষকদের যান্ত্রিক পদ্ধতিতে কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও রিপার মেশিন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ—উভয়ই সাশ্রয় হবে।
এসআর