বাংলার প্রাচীন রাজধানী নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে পর্তুগিজদের হাত ধরে প্রথম লিচু চাষ শুরু হয়। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বর্তমানে এই অঞ্চলে প্রায় দুই শতাধিক লিচু বাগান গড়ে উঠেছে। এ বছর
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সঠিক সময়ে বৃষ্টি হওয়ায় লিচুর ফলন বেশ ভালো হয়েছে।
দেশের অন্যান্য অঞ্চলের লিচুর তুলনায় সোনারগাঁয়ের লিচু আগে পাকে। প্রতি বছর মে মাসের শুরুতেই এই লিচু বাজারে চলে আসে। আকারে বড় এবং স্বাদে অতুলনীয় হওয়ায় স্থানীয়ভাবে অনেকে একে ‘দিল্লিকা লাড্ডু’ বলেও ডাকেন। এখানে মূলত তিন ধরনের লিচু চাষ হয়:
পাতি লিচু: এটি সবার আগে পাকে।
কদমী লিচু: পাতি লিচুর পরেই এটি বাজারে আসে।
বোম্বাই (চায়না-৩): এটি সবার শেষে পাকে।
লিচু পাকার ১৫ দিনের মধ্যেই বাগান থেকে ফল সংগ্রহ করতে হয়। বর্তমানে উপজেলার ৬০টি গ্রামের বাগানগুলোতে চাষিরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কাক, বাদুড় ও চোরের হাত থেকে ফল রক্ষায় রাত জেগে পাহারা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি লিচু পাড়ার জন্য রশি, টুকরি ও বাঁশের সরঞ্জাম সংগ্রহের ধুম পড়েছে।
বিগত কয়েক বছর ধরে সোনারগাঁয়ে এক হাজার পাতি লিচু ৩ হাজার টাকা, কদমী লিচু ৬ হাজার টাকা এবং বোম্বাই লিচু ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়ে আসছে। কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই লিচুতে পোকা দমনের জন্য সাধারণ কীটনাশক ব্যবহার করা হলেও পাকানোর জন্য কোনো ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না।
আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই রঙিন ও রসালো এই লিচু বাজারে ক্রেতাদের জন্য হাজির হবে বলে আশা করছেন বাগান মালিক ও স্থানীয় প্রশাসন।
এসআর