জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কক্ষে এক সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন।
মঙ্গলবার (বিকেল ৫টার দিকে) এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক আমানউল্লাহ আমান, যিনি একটি জাতীয় দৈনিকের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই সময় ইউএনও সানজিদা চৌধুরী স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রশাসনিক বিভিন্ন বিজ্ঞাপন ও প্রচারসংক্রান্ত বিষয়ে মতবিনিময় করছিলেন।
সভা চলাকালে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক কয়েকজন সমর্থক নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন এবং সাংবাদিকদের সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন।
সাংবাদিকরা আলোচনার বিষয় শেষ হওয়ার পর কথা বলার অনুরোধ জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় সরকারি পুকুর থেকে মাটি ও বালু উত্তোলন সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে আমানউল্লাহ আমানকে লক্ষ্য করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান বিএনপি নেতা।
এক পর্যায়ে তার সঙ্গে থাকা লোকজন ওই সাংবাদিকের ওপর হামলা চালায় এবং মারধর করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইউএনও পুলিশকে খবর দিলে ক্ষেতলাল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করে এবং চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় প্রেসক্লাবের এক নেতা জানান, হঠাৎ করে কক্ষে ঢুকে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত।
আহত সাংবাদিক দাবি করেন, পূর্বে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় তার ব্যক্তিগত কিছু সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া হয়, যদিও পরে সেগুলোর কিছু উদ্ধার হয়ে থানায় জমা দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আবু বক্কর সিদ্দিক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সেখানে কেবল কথাকাটাকাটি হয়েছে, কোনো হামলা হয়নি। বরং তিনি নিজেই পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদুল মাসুদ আঞ্জুমান বলেন, ইউএনও কার্যালয়ের মতো স্থানে এমন ঘটনা দুঃখজনক এবং বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
ক্ষেতলাল থানার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল করিম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সাংবাদিককে নিরাপত্তা দিয়ে সরিয়ে নেয়। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
এদিকে, এ হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে নিন্দা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
এসআর