মৌলভীবাজারে গত দুই দিন ধরে অব্যাহত বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে বোরো ধান কাটা ও মাড়াই কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ার ফলে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে জলাবদ্ধতা ও আগাম বন্যার আশঙ্কা তৈরি
হয়েছে, যা কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ: কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাত ও বৃষ্টির ফলে অনেক চাষি কাটা ধান মাড়াই করতে বা রোদে শুকাতে পারছেন না। যারা এখনো ধান কাটতে পারেননি, তারা পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার ভয়ে দ্রুত ফসল ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন।
ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা: হাকালুকি, কাউয়াদিঘী ও হাইল হাওরসহ জেলার প্রধান হাওর অঞ্চলগুলোতে ধান ঘরে তোলার ভরা মৌসুম চলছে। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও সদর উপজেলার কৃষকরা জানিয়েছেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অতিরিক্ত শ্রমিক খরচ দিয়ে পানির নিচ থেকে ধান কাটতে হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য: জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে হাওর এলাকার প্রায় ৭৭ শতাংশ ধান ইতিমধ্যে কাটা সম্পন্ন হয়েছে।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন জানিয়েছেন, কুলাউড়া, বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার হাওরগুলোতে ধান কাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও অন্যান্য এলাকায় কাজ কিছুটা বাকি রয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে কৃষি বিভাগ থেকে আগেই কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তারা আশা করছেন, যদি অতিবৃষ্টি না হয় তবে বড় ধরনের কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।
এসআর