রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার একটি সরকারি কলেজে সংঘর্ষের ঘটনায় নারী শিক্ষক আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
অধ্যক্ষের কক্ষে এক বিএনপি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে চড় মারার অভিযোগে শিক্ষা কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে একই ঘটনায় শিক্ষককে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত ও জুতাপেটার অভিযোগে অভিযুক্ত শাহাদত আলী এখনও গ্রেপ্তার হননি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে আগের একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই তিনি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে গত ২৩ এপ্রিল। তাফসির মাহফিলের জন্য অর্থ সংগ্রহকে কেন্দ্র করে ওই শিক্ষক ও শাহাদত আলীর মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।
একপর্যায়ে তা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং অধ্যক্ষের কক্ষে কথা কাটাকাটির পর মারধরের ঘটনা ঘটে। এ সময় কিছু স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, এর আগে কলেজ কার্যালয়ে ভাঙচুরও চালানো হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন এবং এলাকায় বিক্ষোভ করেন।
পরবর্তীতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মো. আছাদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে তিনি নারী শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চান। একইসঙ্গে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেছেন, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে কলেজের সম্পদ ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধ না করে উল্টো চাপ সৃষ্টি করছে। তার মতে, পরিকল্পিতভাবেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
এদিকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেনি। তবে বিষয়টি সামনে আসার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্তকে ধরতে কাজ শুরু করেছে।
ঘটনার পর স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দলীয় পদ না থাকায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এসআর