কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী মডেল থানায় আয়োজিত ‘ওপেন হাউজ ডে’ অনুষ্ঠানে অতিথিদের আপ্যায়নকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও পোস্ট করে সেটিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে আপ্যায়নের দৃশ্যকে ‘ভাতের হোটেল’ বলে উল্লেখ করা হয়, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন ভাষা ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
গত ১৯ এপ্রিল কটিয়াদী মডেল থানার উদ্যোগে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিং প্রতিরোধে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক এবং এলাকার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য সৌজন্য হিসেবে প্যাকেটজাত খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
পরে কয়েকজন অতিথিকে থানার কক্ষে বসে সেই খাবার গ্রহণ করতে দেখা যায়, যার একটি ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই ভিডিওটি বিকৃত বর্ণনা দিয়ে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে থানার পক্ষ থেকে মাদক ও অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কারণে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এ ধরনের অপপ্রচার চালাতে পারে।
তারা মনে করেন, জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা অনভিপ্রেত এবং এর মাধ্যমে পুলিশের ইতিবাচক উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অনেকেই। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এ ধরনের অপপ্রচার অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমে অংশগ্রহণে আগ্রহ কমে যেতে পারে।
এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বদা সক্রিয় রয়েছে। তিনি জানান, মাদক ও অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কারণেই একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে।
ইতোমধ্যে এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের শনাক্তে কাজ চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে সাইবার আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এসআর