নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় সরকারি ভর্তুকিতে বরাদ্দ দেওয়া কম্বাইন হারভেস্টারগুলো বোরো মৌসুমের সবচেয়ে জরুরি সময়ে মাঠে না থাকায় তীব্র সংকটে পড়েছেন কৃষকরা।
কাগজে-কলমে মেশিন থাকলেও বাস্তবে সেগুলোর দেখা মিলছে না—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে।
উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বারহাট্টায় মোট ২৫টি কম্বাইন হারভেস্টার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে হাওর এলাকায় প্রায় ৭০ শতাংশ এবং সমতলে ৫০ শতাংশ ভর্তুকিতে সাতটি ইউনিয়নে মেশিন বিতরণ করা হয়।
তবে চলমান বোরো কাটার মৌসুমে এসব মেশিন কার্যত অদৃশ্য বলে দাবি কৃষকদের।
এদিকে মাঠে পাকা ধান থাকলেও আবহাওয়া অনিশ্চিত। অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় দ্রুত ফসল কাটার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।
কিন্তু শ্রমিকের সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বর্তমানে একজন শ্রমিকের মজুরি ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছালেও পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক কোমর বা বুকসমান পানিতে নেমে সনাতন পদ্ধতিতে ধান কাটছেন। এতে সময় যেমন বেশি লাগছে, তেমনি বাড়ছে উৎপাদন খরচ ও ঝুঁকি। হঠাৎ বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ এলে পাকা ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও করছেন তারা।
কৃষকদের অভিযোগ, বরাদ্দ পাওয়া হারভেস্টারগুলোর একটি বড় অংশ প্রয়োজনের সময় এলাকায় থাকে না। বেশি ভাড়ার আশায় কিছু মালিক মেশিন অন্য এলাকায় নিয়ে যান বলেও শোনা যাচ্ছে। এমনকি কিছু মেশিন বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন কেউ কেউ।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. জিনিয়া জামান জানান, সরকারি হিসাব অনুযায়ী উপজেলায় ২৫টি হারভেস্টার রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা যাচাই করা হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা জানান, মেশিনগুলোর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য নেই। বিস্তারিত জানতে কিছু সময় প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কৃষি যান্ত্রিকীকরণে সরকারের বড় বিনিয়োগের সুফল তখনই মিলবে, যখন প্রয়োজনের সময় কৃষকরা সহজে এসব যন্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই দ্রুত তদন্ত করে হারভেস্টারগুলোর অবস্থান নিশ্চিত করা এবং মাঠে কার্যকরভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী।
তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে চলতি মৌসুমে বড় ধরনের ফসলহানির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এসআর