উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় চলতি বোরো মৌসুমে ধানের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেলেও স্বস্তিতে নেই চাষিরা। তীব্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং বাজারে ধানের আকস্মিক দরপতন—এই দুই
কারণে বড় ধরনের লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন তারা।
লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম: জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এবার ৮০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও চাষ হয়েছে ৮২ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমিতে। বিশেষ করে ঘের এলাকায় চাষাবাদ সম্প্রসারিত হয়েছে।
সেচ ও জ্বালানি সমস্যা: কৃষকদের প্রধান অভিযোগ, লোডশেডিংয়ের কারণে জমিতে ঠিকমতো সেচ দেওয়া যাচ্ছে না। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এবং ডিজেল সংগ্রহে ভোগান্তি ও বাড়তি দামের কারণে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে।
বাজারদরে ধস: গত বছর প্রতি বস্তা ধান যেখানে ২৩০০-২৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এ বছর তা নেমে এসেছে ১৬০০-১৭০০ টাকায়। লিজ খরচ, সার, বিদ্যুৎ ও শ্রমিক মজুরি দিয়ে লাভ তোলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে অনেক কৃষকের জন্য।
সদর উপজেলার কৃষকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ ৪-৫ দশক ধরে চাষাবাদের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানের মতো সংকটে তারা আগে পড়েননি। সেচ সংকটের কারণে ধানের মান খারাপ হওয়া এবং ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার আশঙ্কায় অনেকে ভবিষ্যতে চাষাবাদ ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সাতক্ষীরা একটি খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা এবং এবার ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। তিনি মনে করেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে সেচের ওপর চাপ কিছুটা কমেছে এবং জ্বালানি সংকটের প্রভাব উৎপাদনে খুব একটা পড়বে না। মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তারা কৃষকদের সহায়তায় কাজ করছেন বলে তিনি জানান।
তবে কৃষকদের দাবি, অবিলম্বে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা না দিলে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষিনির্ভর অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়বে।
এসআর