দিনাজপুরে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় শুরু হয়েছে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমা খাতুন। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আফরোজ সুলতানা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মেডিকেল অফিসার (ডিজিজ কন্ট্রোল) ডা. অমৃত সরকার, এমওআইসিটি ডা. আবু বক্কর সিদ্দিক, ডা. মো. আবু সায়েম সোহাগ, ডা. মো. মাহামুদুল হাসান রাব্বিসহ স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, কর্মসূচির প্রথম দিনেই বীরগঞ্জের ১৫টি টিকাদান কেন্দ্রে একযোগে ১ হাজার ৬৩২ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। পুরো উপজেলায় ২৬৪টি কেন্দ্রের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং তা চলবে আগামী ১০ মে পর্যন্ত।
ডা. আফরোজ সুলতানা জানান, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ এবং শিশুদের জন্য তা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, পর্যাপ্ত টিকা, সিরিঞ্জ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ ইতোমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে এবং সুষ্ঠুভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়নের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কোনো শিশু নির্ধারিত দিনে টিকা নিতে না পারলে পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্থায়ী কেন্দ্রে এসে টিকা গ্রহণ করতে পারবে।
টিকা নিতে আসা এক অভিভাবক রাশেদা বেগম বলেন, বিনামূল্যে এ টিকাদান কার্যক্রম শিশুদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তার সন্তানের জন্য এ সেবা পেয়ে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
এই কর্মসূচির আওতায় ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে বিনামূল্যে হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি আগামী ৫ ও ৬ মে উপজেলার বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন ও প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
উপজেলায় মোট ৩২ হাজার ২৮১ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) সূত্রে জানা গেছে, দেশজুড়ে প্রথম দিনেই প্রায় ১১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিন সপ্তাহব্যাপী (মোট ১১ কর্মদিবস) এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সারাদেশে ২ লাখ ৮২ হাজারের বেশি টিকাকেন্দ্রের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অস্থায়ী কেন্দ্রও রয়েছে, যাতে প্রত্যন্ত এলাকার শিশুরাও সহজে সেবা পায়।
স্বাস্থ্য বিভাগ অভিভাবকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিশুদের টিকা কেন্দ্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে কর্মসূচিটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।
এসআর