ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের প্রায় দুই শতাব্দী পুরোনো একটি খাল দখল ও ভরাটের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
দিঘা বিলের সঙ্গে সংযুক্ত এই খালটি অচল হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে আশপাশের একাধিক গ্রামে মারাত্মক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
এতে কৃষিজমি, পানের বরজ এবং মাছের খামার ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছে। স্থানীয়রা দ্রুত খালটি পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, জাটিয়া ইউনিয়নের হাড়িশ্বর গ্রামের একটি মাঠ থেকে উৎপত্তি হওয়া খালটি প্রায় ৪-৫ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়ে টাংগনগাতি এলাকার দিঘা বিলে গিয়ে মিশত।
হারুয়া, দরগাপাড়া-তুলিয়াটি ও মালিয়াটি গ্রাম হয়ে প্রবাহিত এই খালটি একসময় ২৪-২৫ ফুট প্রশস্ত ছিল এবং নৌযান চলাচলের উপযোগী ছিল। কৃষিপণ্য পরিবহনসহ নানা কাজে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলা, অবৈধ দখল এবং মাটি ভরাটের ফলে এর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষ করে খালের মুখে পুকুর খনন করে পাড় উঁচু করায় দিঘা বিলের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
ফলে বর্ষায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করছে।
এর প্রভাবে শতাধিক একর জমি পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। পানের বরজ নষ্ট হচ্ছে, পুকুরের পাড় ভেঙে মাছ বেরিয়ে যাচ্ছে।
এতে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে এবং অনেক জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোর বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর বর্ষা এলেই দুর্ভোগ বাড়ছে। খালটি দ্রুত দখলমুক্ত করে পুনঃখনন না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
এদিকে খালের সংযোগস্থলে পুকুর খননের অভিযোগ অস্বীকার না করে সংশ্লিষ্ট পক্ষের এক ব্যক্তি জানান, খালটি আগেই ভরাট ছিল। সরকারি উদ্যোগে খনন কাজ শুরু হলে তারা পুকুরের পাড় সরিয়ে নিতে রাজি আছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, খাল-নদী শুধু প্রাকৃতিক জলাধার নয়, বরং পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এগুলো পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। খাল ভরাট হয়ে গেলে জলাবদ্ধতা বাড়ে, কৃষি উৎপাদন কমে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে।
তারা আরও বলেন, খাল ও নদী রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যতে এর প্রভাব আরও মারাত্মক হবে।
তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে খালটি পুনরুদ্ধার ও পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এসআর