[email protected] বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
২ বৈশাখ ১৪৩৩

লক্ষ্মীপুরে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের হামলা: ছেলেসহ ৩ জনকে কুপিয়ে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে মৃত্যু

আলী আকবর রনী

প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ৪:২৭ পিএম

লক্ষ্মীপুর পৌর শহরে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। অবসরপ্রাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবল নাছির আহমদ (৫৫) তার ঘুমন্ত ছেলেসহ তিনজনকে কুপিয়ে জখম করার পর তিন তলা ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা গেছেন। সোমবার (১৩

 এপ্রিল) সকালে বাঞ্চানগর এলাকার পেশকার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

​নিহত: নাছির আহমদ (৫৫), সাবেক ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবল। তিনি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব এখলাসপুর গ্রামের মৃত আরশাদ আলীর ছেলে।

​আহত: নাছিরের ছেলে ইমরান, প্রতিবেশী স্বপন এবং একই বাড়ির ভাড়াটিয়া নাছির (সেলস অফিসার)। এদের মধ্যে স্বপন ও ইমরানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

​স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাছির আহমদ গত বছরের আগস্টে চাকরি থেকে অবসরে যান। ঘটনার রাতে তার স্ত্রী বড় ছেলেকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকায় বাসায় শুধু নাছির ও তার ছেলে ইমরান ছিলেন।

​১. হামলা: সোমবার ভোরে ঘুমন্ত অবস্থায় ইমরানকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন নাছির। রক্তাক্ত ইমরান বাঁচাও বলে ঘর থেকে বেরিয়ে আসলে প্রতিবেশী স্বপন তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে যান।

২. ধারাবাহিক আঘাত: নাছির তখন স্বপনকেও কুপিয়ে জখম করেন। তাদের বাঁচাতে আসা ভাড়াটিয়া নাছিরও হামলার শিকার হন।

৩. আত্মঘাতী লাফ: তিনজনকে কুপিয়ে জখম করার পর নাছির আহমদ নিজে ওই ভবনের তিন তলা থেকে লাফিয়ে পড়েন।

​গুরুতর আহত অবস্থায় ৪ জনকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় ৩ ঘণ্টা চিকিৎসাধীন থাকার পর নাছির আহমদ মারা যান।

​সদর হাসপাতালের আরএমও অরুপ পাল: "আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নাছির আহমদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।"

​অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী: "প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে নাছির আহমদ মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।"

​বর্তমান পরিস্থিতি: এই ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বনের ভেতরে বা পাহাড়ি এলাকায় না হলেও খোদ জনপদে এমন আকস্মিক ও সহিংস ঘটনায় হতবাক স্থানীয়রা। পুলিশ পুরো ঘটনার নেপথ্যে থাকা কারণ উদ্ঘাটনে কাজ করছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর