জাপান প্রথমবারের মতো এমন একটি বিশেষ ওয়াশিং মেশিন তৈরি
করেছে যা কাপড় নয়—মানুষের পুরো শরীরকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিষ্কার করতে পারে। ওসাকায় অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড এক্সপো’-তে প্রদর্শিত হওয়ার পর ডিভাইসটি এখন বাজারে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ প্রযুক্তির পেছনে রয়েছে জাপানের প্রতিষ্ঠান সাইন্স। ডিম্বাকৃতি ক্যাপসুলের মতো এই ডিভাইসের ভেতরে একজন ব্যক্তি শুয়ে ঢুকতে পারেন। ভেতরে প্রবেশের পর আলোর তীব্রতা কমে আসে এবং সিস্টেমটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শরীর পরিষ্কার করা শুরু করে। এর পাশাপাশি ব্যবহারকারী চাইলে ভেতরেই আরাম করে গান শুনতে পারবেন।
‘ফিউচার হিউম্যান ক্লিনার’ নামে পরিচিত এই পডটি এক্সপোতে ব্যাপক দর্শক আকর্ষণ করেছে। ছয় মাসব্যাপী মেলা শেষে এটি নিয়ে মানুষের আগ্রহ আরও বেড়েছে।
সাইন্স এর মুখপাত্র সাচিকো মাকোরা জানিয়েছেন, ডিভাইসটি শুধু শরীর পরিষ্কার করে না—এটি মানসিক প্রশান্তিও দিতে সক্ষম। ভেতরে থাকা উন্নত সেন্সরগুলো ব্যবহারকারীর হার্ট রেটসহ স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন সূচক পর্যবেক্ষণ করে।
বাজারে আগ্রহ বাড়ায় প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করেছে। প্রথম ইউনিটটি কিনেছে ওসাকার এক হোটেল, যেখানে অতিথিরা এই বিশেষ সেবা নিতে পারবেন।
জাপান টাইমস জানায়, খুচরা ইলেকট্রনিক্স বিক্রেতা ইয়ামাদা ডেনকিও একটি ডিভাইস সংগ্রহ করেছে—মূলত ক্রেতাদের আকর্ষণ বাড়াতে। আগামী ২৫ ডিসেম্বর থেকে তারা পডটি দোকানে প্রদর্শন করবে এবং সাধারণ মানুষও এটি ব্যবহার করে দেখতে পারবেন।
প্রথম দফায় মাত্র ৫০টি ইউনিট তৈরি হচ্ছে। প্রতিটির আনুমানিক মূল্য সাড়ে তিন লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ টাকার সমান।
---
ডিভাইসটি কীভাবে কাজ করে? (সরলীকৃত ব্যাখ্যা)
ব্যবহারকারী একটি ২.৩ মিটার লম্বা সিল করা ক্যাপসুলে শুয়ে পড়েন।
মেশিনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাইক্রো বাবল ও সূক্ষ্ম পানির জেট ব্যবহার করে পুরো শরীর পরিষ্কার করে।
ভেতরের সেন্সর বিভিন্ন স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সংকেত পর্যবেক্ষণ করে।
আরামদায়ক অভিজ্ঞতার জন্য পডের ভেতরে হালকা মিউজিক বাজে।
পরিষ্কারের পর মেশিনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শরীর শুকিয়ে দেয়, তাই তোয়ালে প্রয়োজন হয় না।
পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগে মাত্র ১৫ মিনিট।
এসআর
মন্তব্য করুন: