মুঠোফোন সেবার ওপর কর বাড়ানোর কারণে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ পড়েছে। প্রতিবার ১০০ টাকা রিচার্জে প্রায় ২৮ টাকা সরকারের বিভিন্ন কর হিসেবে কেটে রাখা হয়।
মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরদের দাবি, তাদের আয়ের অর্ধেকের বেশি বিভিন্ন কর ও ফি হিসেবে সরকার নিয়ে থাকে।
সম্প্রতি একটি সূত্র জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার মুঠোফোন সেবায় নতুন করে ৩ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে। যদি এটি বাস্তবায়িত হয়, তবে রিচার্জের বিপরীতে করের পরিমাণ আরও বাড়বে। বর্তমানে মুঠোফোন সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট ও সারচার্জ মিলিয়ে করের হার ৩৯ শতাংশেরও বেশি।
সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরদের সংগঠন জানিয়েছে, কর বাড়ানোর ফলে গ্রাহকরা সেবার ব্যবহার সীমিত করছেন, যার ফলে সরকারের রাজস্ব আয়েও প্রভাব পড়ছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর পর্যন্ত দেশের মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা ১৮ কোটি ৮৭ লাখ, যা কয়েক মাস আগের তুলনায় কম।
এছাড়া, গ্রামে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর হার কম হওয়ায় এই কর বৃদ্ধির প্রভাব আরও বেশি পড়েছে। মোবাইল সেবায় কর বাড়ানোর প্রস্তাবের বিপরীতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করেছে।
অপারেটরদের মতে, সরকারের কর নীতির পাশাপাশি বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের চড়া দামের কারণে গ্রাহকসংখ্যা ও ব্যবহার কমছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, করের বোঝা কমানো হলে এ খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
এসআর
মন্তব্য করুন: