[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২২ মাঘ ১৪৩২

১৪৯ মিলিয়ন ফেসবুক-জিমেইল অ্যাকাউন্ট তথ্য ফাঁস: ঝুঁকিতে কোটি কোটি গ্রাহক

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:০০ পিএম

বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি অনলাইন ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক এক

 গবেষণায় দেখা গেছে, জিমেইল, ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় সেবার প্রায় ১৪৯ মিলিয়নেরও বেশি লগইন তথ্য একটি উন্মুক্ত ডাটাবেজে পাওয়া গেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, কোনো পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন ছাড়াই এই ৯৬ গিগাবাইটের ডাটাবেজটি ইন্টারনেটে যে কারও জন্য উন্মুক্ত ছিল।


​কীভাবে চুরি হলো এই বিশাল তথ্য?
​সাইবার নিরাপত্তা গবেষক জেরেমায়া ফাওলার জানান, এটি গুগল বা মেটার সার্ভারে কোনো সরাসরি হ্যাক নয়। বরং ব্যবহারকারীদের ডিভাইসে লুকিয়ে থাকা 'ইনফোস্টিলার' নামক ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সাধারণত ভুয়া সফটওয়্যার আপডেট, সন্দেহজনক ইমেইল অ্যাটাচমেন্ট বা ক্ষতিকর ব্রাউজার এক্সটেনশনের মাধ্যমে এই ম্যালওয়্যার ডিভাইসে প্রবেশ করে।
​কোন সেবার কত তথ্য ফাঁস?
​উন্মুক্ত ডাটাবেজটিতে ইমেইল, ইউজারনেম এবং সরাসরি পাসওয়ার্ডের তালিকা পাওয়া গেছে। উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যানগুলো হলো:


​জিমেইল: ৪৮ মিলিয়ন
​ফেসবুক: ১৭ মিলিয়ন
​ইনস্টাগ্রাম: ৬.৫ মিলিয়ন
​টিকটক: ৭.৮ লাখ
​নেটফ্লিক্স: ৩.৪ মিলিয়ন
​অন্যান্য: ইয়াহু (৪ মিলিয়ন), আউটলুক (১.৫ মিলিয়ন) এবং আইক্লাউড (৯ লাখ)।


​ইমেইল অ্যাকাউন্ট কেন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ?
​বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ইমেইল অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ পেলে হ্যাকাররা ওই মেইলের সাথে যুক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ব্যক্তিগত সব নথিপত্র কবজা করতে পারে। কারণ পাসওয়ার্ড রিসেট করার লিংকগুলো মূলত ইমেইলেই পাঠানো হয়।


​সুরক্ষায় করণীয় ৬টি পদক্ষেপ:
​১. শক্তিশালী ও ভিন্ন পাসওয়ার্ড: প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা ও কঠিন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।


২. পাসকি (Passkey) ব্যবহার: যেসব সেবায় পাসকি সমর্থিত, সেখানে পাসওয়ার্ডের বদলে এটি ব্যবহার করুন।


৩. টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA): পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি অতিরিক্ত নিরাপত্তা স্তর বা কোড সিস্টেম চালু রাখুন।


৪. সফটওয়্যার আপডেট: ব্রাউজার এবং অপারেটিং সিস্টেম সবসময় আপডেট রাখুন।


৫. লিংক ব্যবহারে সতর্কতা: অপরিচিত মেইল বা লিংকে ক্লিক করা এবং অপ্রয়োজনীয় এক্সটেনশন ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকুন।


৬. ম্যালওয়্যার স্ক্যান: নিয়মিত বিশ্বস্ত অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে ডিভাইস স্ক্যান করুন।
​বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, বড় কোম্পানিগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী হলেও ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত অসতর্কতার কারণে ডিভাইস আক্রান্ত হলে পুরো ডিজিটাল জীবনই ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর