বাংলাদেশে ডিজিটাল ডিভাইসের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন বৃদ্ধির
ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি বলেন, দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদান করাই এখন সরকারের লক্ষ্য।
রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত তিনদিনব্যাপী ‘ডিজিটাল ডিভাইস ও ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো:
শুল্ক ও নীতিগত সহায়তা: মোবাইল ও ব্যাটারি শিল্পে ইতোমধ্যে শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কম্পিউটার উৎপাদনেও একই ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার ও ব্যবসায়ীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাজারের সম্ভাবনা: বাংলাদেশে বর্তমানে স্মার্টফোন ব্যবহারকারী ৪৫%, ল্যাপটপ ১০% এবং ট্যাবলেট মাত্র ২-৫%। বিশাল এই তরুণ জনগোষ্ঠীর চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে ডিভাইস বাজার বড় করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে।
ডিজিটাল লার্নিং ও ২০৩০-এর লক্ষ্য: ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট এবং ডিজিটাল লার্নিং পৌঁছে দিতে সাশ্রয়ী ডিভাইসের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিরাপত্তা ও নীতিমালা: সাইবার সিকিউরিটি, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা এবং এআই (AI) পলিসির মতো ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের কাঠামো ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে, যা এখন বাস্তবায়নের পথে।
এক্সপো ও সমাপনী হাইলাইটস:
অনুষ্ঠানে আইসিটি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী এবং এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খানসহ সংশ্লিষ্ট খাতের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দক্ষ মানবসম্পদ ব্যবহার করে বাংলাদেশকে একটি প্রযুক্তি রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এক্সপো বৃদ্ধি: মেলাটি ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।
পুরস্কার জয়ী: সেরা প্যাভিলিয়ন হিসেবে শ্যাওমি, লিনেভো ও টিপি লিংক এবং সেরা স্টল হিসেবে ডিমটেক, জিনিউ ও স্কার্টের লি. পুরস্কৃত হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামীতে এ ধরনের আয়োজন ঢাকার বাইরে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও করা হবে।
এসআর
মন্তব্য করুন: