নির্ধারিত ৯০ মিনিট + অতিরিক্ত সময়—দুই দলের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার পরও জালের দেখা মিলল না।
ম্যাচের ৯৪তম মিনিটে জয়সূচক গোলের সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল রাকিব হোসেনের সামনে। ফ্রি-কিক থেকে আসা বল ভারতীয় রক্ষণে জটলার মধ্যে পড়ে, সেখান থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভারতের সন্দেশ জিংগানকে কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যান রাকিব। কিন্তু দুর্দান্ত শটটি চলে যায় শিলংয়ের আকাশে! মুহূর্তটি হতাশার হলেও ম্যাচের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দৃশ্য হয়ে থাকল সেটাই।
এর কয়েক মিনিট আগেই, ৮৯তম মিনিটে, বাংলাদেশের ফাহিম দূরপাল্লার শটে ভারতের গোলরক্ষক বিশাল কৈথকে পরীক্ষায় ফেলেন। জোরালো শটটি সরাসরি কৈথের হাতে জমা পড়লেও মুহূর্তটি ছিল ভারতের রক্ষণভাগের জন্য সতর্কবার্তা।
ম্যাচের একাধিক মুহূর্তে ভারত গোলের কাছাকাছি গিয়েছিল, কিন্তু বাংলাদেশের রক্ষণভাগ দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ৮৪তম মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন সুনীল ছেত্রী, কিন্তু তার হেড পোস্টের বাইরে চলে যায়। ভারতের হয়ে লিস্টন কোলাসো বেশ কয়েকবার আক্রমণ শানালেও ফিনিশিংয়ের অভাবে দলটি গোল করতে পারেনি।
বাংলাদেশের রক্ষণভাগে হামজা, রাহমত ও রিদয় অনবদ্য পারফরম্যান্স দেখান। বিশেষ করে ৭২তম মিনিটে রিদয়ের অসাধারণ ব্লক ভারতের নিশ্চিত গোল আটকে দেয়।
পুরো ম্যাচজুড়ে দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করেছিল, কিন্তু কেউই বল জালে পাঠাতে পারেনি। ভারতের আক্রমণভাগ ব্যর্থ হয়েছে, অন্যদিকে বাংলাদেশও প্রতিআক্রমণে ধারালো হলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে হতাশ হতে হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত ০-০ সমতায় শেষ হওয়া এই ম্যাচে দুই দলই একটি করে মূল্যবান পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে। ভারতের মাটিতে গিয়ে এমন লড়াকু পারফরম্যান্স বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক, তবে রাকিব-ফাহিমদের জন্য আক্ষেপ থেকেই গেল—৯৪তম মিনিটের সেই শটটি যদি গোল হতো! তাহলে শেষ হতো ২২ বছরের অপেক্ষা।
এসআর
মন্তব্য করুন: