বাংলাদেশ ফুটবলের এই চলমান সংকটের মধ্যেই সামনে এসেছে জাতীয় দলের নতুন কোচ নিয়োগের বিষয়টি, যা নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নতুন করে আলোচনা, বিতর্ক এবং প্রত্যাশা।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) নতুন প্রধান কোচ নিয়োগের জন্য আবেদন আহ্বান করলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অভিজ্ঞ ও উচ্চমানের কোচরা আবেদন করেন। এদের মধ্যে এমন অনেক কোচ ছিলেন, যাদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা, বড় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ এবং সফলতার রেকর্ড রয়েছে।
তবে অভিযোগ উঠেছে, কোচ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট ধাঁচ বা সীমাবদ্ধ চিন্তাধারা কাজ করছে। বিশেষ করে “এশিয়ান অভিজ্ঞতা” বা “সাফ অঞ্চলের অভিজ্ঞতা”—এ ধরনের শর্তকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার কারণে অনেক আন্তর্জাতিক মানের কোচ প্রক্রিয়া থেকে ছিটকে পড়ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রশ্ন উঠছে—বিশ্বমানের কোচদের অভিজ্ঞতা কি শুধুমাত্র ভৌগোলিক অঞ্চলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত, নাকি তাদের সামগ্রিক দক্ষতা, কৌশলগত জ্ঞান এবং দল গঠনের সক্ষমতাকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত?
ফুটবল সমর্থকদের মতে, বাংলাদেশ ফুটবলের বর্তমান অবস্থায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন একজন শক্তিশালী ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, স্বাধীনভাবে কাজ করতে সক্ষম এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বিশ্বাসী কোচ। কিন্তু বাস্তবতা হলো—যদি সেই কোচকে দল গঠনের স্বাধীনতাই না দেওয়া হয়, তাহলে তার দক্ষতা মাঠে প্রতিফলিত হওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে।
এছাড়া দেশের ফুটবল অঙ্গনে আরেকটি আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে—সহকারী কোচ ও টেকনিক্যাল স্টাফদের প্রভাব। অনেক সমর্থকের প্রশ্ন, প্রধান কোচ নিয়োগের পরও যদি স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী সহকারী বা টেকনিক্যাল ব্যক্তির হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকে, তাহলে নতুন কোচ কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন?
ফলে নতুন কোচ নিয়োগ এখন শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়—এটি হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ, কতটা পেশাদার এবং কতটা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে করা হচ্ছে—তা নির্ধারণ করবে দেশের ফুটবল কোন পথে এগোবে।
বাংলাদেশ ফুটবল এখন এমন এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে, যেখানে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত পুরো কাঠামো বদলে দিতে পারে, আবার একটি ভুল সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিনের স্থবিরতাকে আরও গভীর করতে পারে। তাই নতুন কোচ নির্বাচনকে ঘিরে সমর্থক, বিশ্লেষক এবং সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি এখন এক জায়গায়—এবার কি সত্যিই পরিবর্তন আসবে, নাকি পুরনো ধারা বজায় থাকবে?
এসআর