[email protected] সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

এশিয়ান গেমস বাছাই

এশিয়ান গেমসের গৌরবের মঞ্চে নারী হকি দল

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৪১ এএম

ইতিহাস গড়ে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ নারী হকি দল। প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নিয়ে বাছাইপর্ব থেকেই জায়গা করে নিল জাপানের নাগোয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আগামী সেপ্টেম্বরে এশিয়ান গেমসের মূলপর্বে। বাংলাদেশ নারী হকির এ অর্জন দেশের খেলাধুলার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ করল।

ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বে শুক্রবার ‘এ’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে হংকংকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। এই জয়ের সুবাদে তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় কণা আক্তার–অর্পিতা পালের দল। নিয়ম অনুযায়ী দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল সরাসরি এশিয়ান গেমসের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে—অপরাজিত বাংলাদেশও সেই কাঙ্ক্ষিত স্থান দখল করেছে। 

হংকংকে হারিয়ে অঘোষিত ফাইনালের রোমাঞ্চকর এক ম্যাচ ছিল। জাকার্তার আকস্মিক গরম আবহাওয়ায় ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। খেল শুরুর মাত্র ১৫ সেকেন্ডের মাথায় হংকংয়ের ফরোয়ার্ড ল কা মুন মেলিসা ডান দিক থেকে সতীর্থের আড়াআড়ি ক্রসে সার্কেলের ভেতর থেকে দারুণ হিটে গোল করেন। দুই ম্যাচে টানা হারের পর নিজেদের শেষ ম্যাচে জয়ের মরিয়া চেষ্টা নিয়ে নেমেছিল হংকং।

কিন্তু সেই ধাক্কা সামলে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। ধারাবাহিক আক্রমণে প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে চাপ বাড়াতে থাকে কণা–রিয়াদের মেয়েরা। দশম মিনিটে সমতায় ফেরেন এমা নাদিরা—সার্কেলে সতীর্থের পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ঠাণ্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে গোলকিপারকে পরাস্ত করেন তিনি।

দ্বিতীয় কোয়ার্টারে দুই দল পাল্টাপাল্টি আক্রমণ চালালেও গোলের দেখা মেলেনি। তৃতীয় কোয়ার্টারের মাঝামাঝি ফিল্ড গোলে কণা আক্তারের নিখুঁত শটে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। এ গোলেই জয়ের ভিত রচনা হয়।

শেষ কোয়ার্টারে ব্যবধান বাড়ানোর নানা সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি মেয়েরা। শেষ দুই মিনিটে কণার একটি জোরালো শট সরাসরি প্রতিপক্ষ গোলকিপারের গায়ে লাগে। তবে শেষ বাঁশির পরই শুরু হয় উচ্ছ্বাসের বিস্ফোরণ—এশিয়ান গেমস নিশ্চিত হওয়ার আনন্দে আনন্দে ভেসে ওঠে পুরো দল।

নতুন ইতিহাসের পথে নারী হকি। এটি শুধু একটি জয়ের গল্প নয়, বরং বাংলাদেশের নারী হকির এক যুগান্তকারী সাফল্যের যাত্রা। চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে ৫–৫ গোলের অসাধারণ লড়াই দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল দলটি, যা ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের প্রথম ড্র।

পরের ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩–২ গোলে হারিয়ে রচনা করে প্রথম জয়ের ইতিহাস। আর হংকংয়ের বিপক্ষে জয় এনে ইতিহাসের পাতা খুলে দিল দলটি।

জাতীয় নারী দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই বিকেএসপি থেকে উঠে আসা। অনূর্ধ্ব–১৮ এশিয়ান কাপে ব্রোঞ্জ জেতা সেই প্রজন্মের মেয়েরাই এখন দেশের হয়ে সিনিয়র মঞ্চে নাচছে গৌরবের সুরে।

প্রধান কোচ জাহিদ হোসেন রাজু বলেন, “মেয়েরা মাঠে দারুণ মনোবল নিয়ে খেলেছে। প্রতিটি ম্যাচেই উন্নতি হয়েছে তাদের পারফরম্যান্সে। পরিকল্পনা মেনে খেলার ফলেই আমরা আজ এই সাফল্য পেয়েছি।”

অধিনায়ক অর্পিতা পাল বলেন, “আন্তর্জাতিক হকিতে আমাদের প্রথম অংশগ্রহণেই এশিয়ান গেমসে জায়গা—এটা স্বপ্নের মতো অনুভূতি।”

সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উম্মোচিত হলো নারী হকি দলের জন্য। বাংলাদেশ নারী হকি দলের এই সাফল্য দেশীয় ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত খুলে দিয়েছে। এতদিন বয়সভিত্তিক পর্যায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল মেয়েদের হকি—এবার সেই সীমা পেরিয়ে সিনিয়র দল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের রেখে গেল উজ্জ্বল স্বাক্ষর। এই সাফল্য শুধু একটি দলের নয়, বরং বাংলাদেশের নারী ক্রীড়ার সার্বিক অগ্রযাত্রার প্রতীক।

সমীকরণ: অপরাজিত বাংলাদেশের টিকিট নিশ্চিত

  • চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে: ড্র (৫–৫)
  • উজবেকিস্তানের বিপক্ষে: জয় (৩–২)
  • হংকংয়ের বিপক্ষে: জয় (২–১)
  • মোট পয়েন্ট: ৭
  • অবস্থান: গ্রুপ ‘এ’ চ্যাম্পিয়ন
  • যোগ্যতা: এশিয়ান গেমস ২০২৬–এর নারী হকি ইভেন্টে সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত

 

এসআর

সম্পর্কিত খবর