[email protected] সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

১৪ বছর পর কাবাডিতে বাংলাদেশের পদক প্রত্যাবর্তন

মোঃ আলী আকবর রনী

প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ৭:১৩ পিএম

চীনের সানিয়ায় অনুষ্ঠিত Asian Beach Games 2026-এ নারী কাবাডি ইভেন্টে ১৪ বছর পর আবারও পদক জিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ।

সেমিফাইনালে ভারতের কাছে পরাজিত হলেও নিয়ম অনুযায়ী ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেছে দলটি। ২০১২ সালের পর এই আসরে এটিই বাংলাদেশের প্রথম কাবাডি পদক—যা দেশের নারী ক্রীড়াঙ্গনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে কঠিন বাস্তবতা, ক্লান্তি এবং সূচি-জটিলতার বড় প্রভাব। টুর্নামেন্টের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার ম্যাচটি ২৪ তারিখে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়া—বিশেষ করে টানা বৃষ্টির কারণে—সেদিন ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়নি। পরবর্তীতে কোচ, ম্যানেজমেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ম্যাচটি পিছিয়ে দেওয়া হয়।

 

এই সূচি পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের ওপর। ২৪ তারিখে ম্যাচটি হলে দলটি অন্তত দুই দিন বিশ্রামের সুযোগ পেত। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে একই দিনে (আজ) সকালে নেপালের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে হয়, এরপর অল্প সময়ের ব্যবধানে সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হতে হয়।

একদিনে দুইটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলায় শারীরিকভাবে অনেকটাই ক্লান্ত হয়ে পড়ে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের সময় না পাওয়ায় তারা পুরো ফিটনেস নিয়ে মাঠে নামতে পারেনি—যা বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

 

নেপালের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত লড়াইপূর্ণ এবং শারীরিকভাবে demanding, যেখানে খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ শক্তি ব্যয় করতে হয়েছে। সেই ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে হওয়ায় পারফরম্যান্সে স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

 

সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতে কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুললেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্লান্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রথমার্ধে স্কোর ছিল ২২-১৫—যেখানে বাংলাদেশ ম্যাচে থাকার আশা জাগিয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণভাগে ভাঙন এবং রেইডিংয়ে ধার কমে যাওয়ায় ব্যবধান দ্রুত বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ৫০-৩১ পয়েন্টে হেরে যায় বাংলাদেশ।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি সূচি অনুযায়ী ২৪ তারিখেই নেপালের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতো, তাহলে বাংলাদেশ দল অন্তত দুই দিন বিশ্রাম পেত। সেই পরিস্থিতিতে একই দিনে দুই ম্যাচ খেলার প্রয়োজন হতো না এবং ভারতের বিপক্ষে দলটি আরও সতেজ ও প্রতিযোগিতামূলক পারফরম্যান্স দেখাতে পারত। এমনকি ম্যাচের ফল ভিন্ন হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

 

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের অনেককেই স্বাভাবিক ছন্দে দেখা যায়নি। রেইডে কার্যকারিতা কমে যাওয়া, ট্যাকলে দেরি এবং সমন্বয়ের ঘাটতি—সবকিছুই ক্লান্তির প্রভাব হিসেবে ধরা পড়ে। এক কথায়, দলটি পুরোপুরি ফিট অবস্থায় ছিল না, যা ম্যাচের ফলাফলে বড় ভূমিকা রেখেছে।

 

তবুও, সামগ্রিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় বাংলাদেশের অর্জন অত্যন্ত ইতিবাচক। গ্রুপ পর্ব থেকে ধারাবাহিক ভালো খেলায় নকআউট নিশ্চিত করা এবং শেষ পর্যন্ত তৃতীয় স্থান অর্জন—সব মিলিয়ে এটি একটি গর্বের সাফল্য। প্রতিকূল সূচি, আবহাওয়ার বাধা এবং শারীরিক ক্লান্তি সত্ত্বেও ব্রোঞ্জ পদক অর্জন দলের মানসিক দৃঢ়তারই প্রমাণ।

বিদেশের মাটিতে এই সাফল্য ভবিষ্যতের জন্য বড় বার্তা দিচ্ছে—যথাযথ পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও উন্নত প্রস্তুতি নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বড় সাফল্য এনে দিতে সক্ষম। এই ব্রোঞ্জ পদক শুধু একটি অর্জন নয়, বরং সম্ভাবনার নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত

এসআর

সম্পর্কিত খবর