[email protected] রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

৬ষ্ঠ এশিয়ান বিচ গেমস

ডোপ টেস্টে ক্লান্ত অধিনায়ক, নেপালের কাছে হার-সেমিফাইনালে বাংলাদেশের সামনে শক্তিশালী ভারত

মোঃ আলী আকবর রনী

প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৩১ এএম

এশিয়ান বিচ গেমস কাবাডি: নেপালের কাছে হারের পরও সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ। চীনের সানিয়া শহরে অনুষ্ঠিত এশিয়ান বিচ গেমস ২০২৬-এর কাবাডি ইভেন্টে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নেপালের কাছে শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াইয়ে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ নারী দল। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৩৮-৩৬ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পায় নেপাল।

এই হার বাংলাদেশের সেমিফাইনাল যাত্রায় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। গ্রুপ পর্বে আগের দুই ম্যাচে দাপুটে জয়ের সুবাদে রানার্সআপ হিসেবে শেষ চার নিশ্চিত করেছে লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। ফলে টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী সেমিফাইনালে শক্তিশালী ভারত দলের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

টানটান উত্তেজনায় ভরা ছিল এই ম্যাচ। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল সমানতালে লড়াই। কোনো দলই কাউকে ছাড় দিতে রাজি ছিল না। রেইড এবং ট্যাকলের পাল্টাপাল্টি লড়াইয়ে ম্যাচটি দ্রুতই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

প্রথমার্ধে নেপাল কিছুটা এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশ ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলতে থাকে। বিরতিতে যাওয়ার সময় স্কোরলাইন ছিল নেপাল ১৯, বাংলাদেশ ১৭—মাত্র দুই পয়েন্টের ব্যবধান, যা ম্যাচের প্রতিযোগিতামূলক চরিত্রই তুলে ধরে।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ছিল নাটকীয়তা ভরা। বিরতির পর বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। রেইডাররা দ্রুত পয়েন্ট তুলতে শুরু করলেও নেপালের ডিফেন্স ছিল বেশ সংগঠিত। প্রতিটি আক্রমণের বিপরীতে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে তারা।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তগুলো ছিল সবচেয়ে নাটকীয়। বাংলাদেশ ব্যবধান কমিয়ে আনলেও শেষ পর্যন্ত নেপালের লিড অতিক্রম করতে পারেনি। নির্ধারিত সময় শেষে স্কোরবোর্ডে ৩৮-৩৬ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে নেপাল।

এই ম্যাচে বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় ও অধিনায়ক শ্রাবনীকে তার চেনা ছন্দে পাওয়া যায়নি। সাধারণত যিনি দলের আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই ক্ষেত্রেই নেতৃত্ব দেন, সেই শ্রাবনীর পারফরম্যান্স ছিল তুলনামূলকভাবে নিস্তেজ।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ম্যাচের আগের দিন তাকে ডোপ টেস্টের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এর ফলে মানসিক চাপের পাশাপাশি রাতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে পারেননি তিনি। ঘুমের ঘাটতি ও শারীরিক ক্লান্তি তার পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ। সানিয়ার প্রচণ্ড গরমে একদিনে একাধিক ম্যাচ খেলতে হওয়ায় খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সামনে শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনাল ম্যাচ থাকায় শারীরিক ও মানসিক চাপ আরও বেড়েছে।

গ্রুপে দ্বিতীয় হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশকে এখন অন্য গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ভারতের বিপক্ষে খেলতে হবে। কাবাডিতে ভারত ঐতিহ্যগতভাবে শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিত এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের ধারাবাহিক সাফল্য রয়েছে।

তবে বিচ কাবাডির আলাদা বৈশিষ্ট্য—বিশেষ করে বালুর ওপর খেলার কৌশল—বাংলাদেশের জন্য একটি বাড়তি সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের মেয়েরা যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, তাতে সেমিফাইনাল ম্যাচে লড়াই জমে ওঠারই আভাস মিলছে।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা (বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা) ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল দারুণ আত্মবিশ্বাস জাগানিয়া। শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয় তুলে নেওয়ায় দলটির মনোবল এখনো বেশ উঁচুতে রয়েছে।

যদিও নেপালের বিপক্ষে হারে কিছুটা ছন্দপতন হয়েছে, তবে সেই ম্যাচের লড়াকু মানসিকতা দলের জন্য ইতিবাচক দিক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

পদকের লড়াইয়ে বাংলাদেশের সম্ভাবনাও রয়েছে। সেমিফাইনালে উঠেই বাংলাদেশ অন্তত একটি ব্রোঞ্জ পদকের সম্ভাবনা ধরে রেখেছে। তবে দলটির লক্ষ্য এখানেই থেমে নেই—ফাইনালে উঠে স্বর্ণ বা রৌপ্য জয়ের স্বপ্ন দেখছে তারা। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে সেই লক্ষ্য পূরণের বড় পরীক্ষা। এই ম্যাচে জয় পেলে বাংলাদেশের জন্য ইতিহাস গড়ার সুযোগ তৈরি হবে।

নেপালের বিপক্ষে হারটি যেমন হতাশার, তেমনি ম্যাচের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক চরিত্র বাংলাদেশের সক্ষমতারই প্রমাণ। ছোট ছোট ভুল এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পয়েন্ট হাতছাড়া—এই বিষয়গুলোই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দিয়েছে।

সেমিফাইনালে ভালো করতে হলে বাংলাদেশকে ডিফেন্সে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে হবে, রেইডে কার্যকারিতা বাড়াতে হবে এবং খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও রিকভারি ব্যবস্থাপনায় আরও মনোযোগ দিতে হবে—বিশেষ করে ব্যস্ত সূচির মধ্যে।

সব মিলিয়ে, এশিয়ান বিচ গেমস ২০২৬-এর কাবাডি ইভেন্টে বাংলাদেশ নারী দলের যাত্রা এখন নতুন এক মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। নেপালের কাছে হারের পরও শেষ চার নিশ্চিত করা দলটির দৃঢ়তার প্রমাণ। তবে সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ—ভারত। অধিনায়ক শ্রাবনীর দ্রুত ছন্দে ফেরা এবং পুরো দলের সম্মিলিত পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের পদকযাত্রার ভবিষ্যৎ।

 

এসআর

সম্পর্কিত খবর