দেশের বক্সিং অঙ্গনে রাজশাহীর পরিচিতি অনেক পুরোনো। সেই ধারার অন্যতম পুরোধা প্রতিষ্ঠান ১৯৮৯ সালে গড়ে ওঠা মডার্ন বক্সিং ক্লাব।
প্রতিষ্ঠার সময় প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন আবু সুফিয়ান চিশতি বাবু।
তার উদ্যোগেই ক্লাবটি যাত্রা শুরু করে এবং পরবর্তীতে রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার অধিভুক্তি লাভ করে।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-এর খুলনা আঞ্চলিক শাখায় ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত আছেন।
বাংলাদেশের বক্সিং ইতিহাসে রাজশাহীর নাম বিশেষভাবে আলোচিত হয় ১৯৮৬ সিউল এশিয়ান গেমস-এ। সে আসরে পদক জিতে দেশকে গর্বিত করেছিলেন মোশাররফ হোসেন।
জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পাওয়া এই বক্সারের অনুপ্রেরণায় রাজশাহীতে বক্সিং চর্চা নতুন গতি পায়। সেই ধারাবাহিকতায় মডার্ন বক্সিং ক্লাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
বর্তমানে ক্লাবের প্রধান প্রশিক্ষক ও সাধারণ সম্পাদক শফিউল আজম মাসুদ। তিনি জানান, ১৯৯১ সালে খেলোয়াড় হিসেবে ক্লাবে যুক্ত হন এবং ২০০০ সাল থেকে কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তার ভাষ্য, রাজশাহীকে ‘সিটি অব বক্সিং’ হিসেবে পরিচিত করার পেছনে এ ক্লাবের অবদান উল্লেখযোগ্য। তবে পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ক্লাবটি নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে চলছে।
ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, এখান থেকে উঠে আসা ইসরাফিল (বর্তমানে সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক পদকজয়ী), নাদিম হোসেন (বিশ্ব বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণকারী), মাহমুদ আলী মিঠু, জনি, আলামিন, আরিফসহ সাম্প্রতিক প্রজন্মের আবু তালহা, রবিন, জাহিদুল, উৎসব ও লিমন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করেছেন। প্রতিবছরই ক্লাবের একাধিক খেলোয়াড় জাতীয় আসরে অংশ নিচ্ছেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিনিধিত্ব করছেন।
বর্তমানে প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত অনুশীলন করছে এই ক্লাবে। ভর্তি ফি ৩০০ টাকা। ছোটদের মাসিক ফি ৩০ টাকা এবং বড়দের জন্য ৫০ টাকা নির্ধারিত।
স্বল্প এই ফিতে ক্লাব পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
একজোড়া গ্লাভস কিনতে লাগে প্রায় তিন হাজার টাকা, টিথ গার্ডের দাম ৩০০ টাকা এবং ব্যান্ডেজের জন্য খরচ হয় প্রায় ৫০০ টাকা। অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষেই এসব সরঞ্জাম কেনা সম্ভব হয় না, ফলে ক্লাবকেই সহায়তা করতে হয়।
প্রতিষ্ঠার তিন দশকেরও বেশি সময় পার হলেও কাঙ্ক্ষিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আর্থিক সহায়তা না পাওয়ায় হতাশা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। রাজশাহীর বক্সিং ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
এসআর
মন্তব্য করুন: