চলমান আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ওপর কোনো ধরনের শাস্তি না আসায় বোর্ড কর্তাদের মধ্যে স্বস্তির অনুভূতি দেখা গেছে।
বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, বাংলাদেশকে আর্থিক কিংবা ক্রীড়াগত নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে। কারণ, বাংলাদেশের অনুপস্থিতিতে আয়োজক সংস্থা আইসিসির সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি আলোচনায় ছিল।
তবে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) আইসিসি এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জানায়, বিশ্বকাপ বর্জনের কারণে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো আর্থিক জরিমানা, প্রশাসনিক ব্যবস্থা কিংবা ক্রীড়াগত শাস্তি নেওয়া হচ্ছে না। ভারত সফরে অনিচ্ছার কারণে বাংলাদেশ টুর্নামেন্টে অংশ না নিলেও, বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে যুক্ত করা হলেও আইসিসি এই বিষয়ে নমনীয় অবস্থান নেয়।
আইসিসি ও বিসিবির মধ্যকার সমঝোতার অংশ হিসেবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ২০৩১ সালে ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠেয় আইসিসি পুরুষ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশ একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ পাবে। তবে সেই আয়োজন আইসিসির নির্ধারিত নিয়ম, সময়সূচি ও পরিচালনাগত কাঠামোর আওতায় হবে।
এ প্রসঙ্গে বিসিবির সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ বলেন, বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো আর্থিক বা অন্য শাস্তি না আসায় বোর্ড স্বস্তি বোধ করছে। তিনি জানান, সম্ভাব্য নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের আশঙ্কা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার ফলে যে আর্থিক প্রভাব পড়তে পারে, তা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে আংশিকভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব। নারী ক্রিকেট সংক্রান্ত আয়োজনগুলো এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
ফারুক আহমেদ আরও জানান, আগামী বছর বাংলাদেশ নারী অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে। পাশাপাশি ২০৩১ সালের যৌথ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভেন্যুতে ম্যাচ সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে।
এদিকে বিসিবির আরেক সহ-সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বলেন, শাস্তির বাইরে আরও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে লাহোরে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো থেকে বোঝা যায়, আইসিসির সঙ্গে বিসিবির সম্পর্ক আগের তুলনায় ইতিবাচক অবস্থায় রয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: