আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) চেয়ারম্যান জয় শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খুব একটা সক্রিয় নন।
গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত তাঁর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্টের সংখ্যা মাত্র ১৩টি। আগেও তাঁর পোস্টে ‘হাহা’ রিঅ্যাকশন দেখা যেত, তবে প্রতিক্রিয়া কম থাকায় বিষয়টি তেমন চোখে পড়েনি। বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ পড়ার পর পরিস্থিতি যেন একেবারেই বদলে গেছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজ ভারত সফরে এলে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সে সময় জয় শাহ তাদের হাতে ক্রিকেট ব্যাট তুলে দেন। ওই দিন দেওয়া দুটি পোস্ট মিলিয়েও ছয় হাজারের কিছু বেশি রিঅ্যাকশন পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশকে বিশ্বকাপের বাইরে রেখে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের পর থেকে জয় শাহর প্রায় প্রতিটি পোস্টেই রিঅ্যাকশনের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে—আর তার বড় অংশজুড়েই রয়েছে ‘হাহা’।
২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকার ছবি দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট করেন আইসিসি চেয়ারম্যান। সেই পোস্টে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৬৬ হাজার প্রতিক্রিয়া এসেছে, যার মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজারই ‘হাহা’। অনেকে মন্তব্যে ব্যঙ্গ করে আইসিসিকে ‘ইন্ডিয়ান কমেডি কাউন্সিল’ বলেও উল্লেখ করেছেন।
এরপর ৬ ফেব্রুয়ারি ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতার পর শুভেচ্ছা জানিয়ে দেওয়া পোস্টেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সেখানে মোট রিঅ্যাকশনের বড় অংশই ছিল হাস্যরসাত্মক। বিশ্বকাপ শুরুর দিন ট্রফি ও ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মার সঙ্গে তোলা ছবিতেও একই চিত্র দেখা গেছে—লাখের কাছাকাছি প্রতিক্রিয়ার বেশির ভাগই ‘হাহা’।
এর আগেও ২১ জানুয়ারি নামিবিয়ায় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ চলাকালে আফ্রিকা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তোলা ছবি পোস্ট করেছিলেন জয় শাহ। সেই পোস্টেও অধিকাংশ রিঅ্যাকশন ছিল ‘হাহা’। ঠিক ওই সময়ই আইসিসির ভার্চুয়াল বৈঠকে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।
নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারত থেকে ম্যাচ সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি তুলেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে ভোটাভুটিতে ১২-২ ব্যবধানে সেই প্রস্তাব নাকচ হয়। বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়েছিল কেবল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।
এই সিদ্ধান্তগুলোর পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে জয় শাহর পোস্টে নেটিজেনদের ‘হাহা’ প্রতিক্রিয়া যেন এক ধরনের প্রতিবাদের ভাষায় রূপ নিয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: